State

বিজেপি নেতাদের সঙ্গে নিয়ে ভোট হিংসা এলাকা দেখলেন ধনকর, বিক্ষোভের মুখে রাজ্যপাল

0
(0)

খবর লাইভ : নিজের চোখে ভোট হিংসা এলাকা দেখতে গিয়ে বৃহস্পতিবার শীতলকুচি, দিনহাটা সহ একাধিক জায়গায় বিক্ষোভের মুখে পড়ার পাশাপাশি কালো পতাকা দেখতে হল রাজ্যপাল জগদীপ ধনকরকে। আর ভোট হিংসা এলাকা দেখতে গিয়ে প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা সুখকর না হওয়ায় এক সময়ে নিজের মেজাজও হারিয়ে ফেললেন রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান। দিনহাটায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যেই তর্জনি উঠিয়ে থানার আইসি সঞ্জয় দত্তকে হুমকি দিলেন তিনি। আর রাজ্যপালের এমন হুমকির পরেই সঙ্গে থাকা কোচবিহারের বিজেপি সাংসদ নিশীথ প্রামাণিকও বিক্ষোভকারীদের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে ধেয়ে গেলেন।

রাজ্যপালের এমন আচরণ নিয়ে রীতিমতো সমালোচনার ঝড় উঠেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ‘প্রকাশ্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে জগদীপ ধনকর যেভাবে দিনহাটা থানার আইসিকে আঙুল উঁচিয়ে হুমকি দিয়েছেন, তা লজ্জাজনক। কোনও সংবিধানিক প্রধান এই ধরনের আচরণ করতে পারেন না। ওনার আচরণ একজন রাজনৈতিক নেতার মতো।’ একইসুরে রাজ্যপালের আচরণের সমালোচনা করেছেন সিপিএম পলিটব্যুরোর সদস্য মহম্মদ সেলিম, কোচবিহার জেলা তৃণমূল সভাপতি পার্থপ্রতিম রায় ও কংগ্রেস নেতা আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়। কোচবিহার জেলা তৃণমূল সভাপতির কথায়, ‘রাজ্যপাল আসলে এখন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের ভূমিকা পালন করছেন। ওঁর কাজ হচ্ছে মুখ থুবড়ে পড়া বঙ্গ বিজেপিকে অক্সিজেন জোগানো। কিন্তু উনি জানেন না, অক্সিজেনেও বিজেপির বাঁচার কোনও আশা নেই।’ আর কংগ্রেস নেতা আশুতোষ বলেছেন, ‘রাজ্যপাল সরাসরি বিজেপিতে যোগ দিয়ে রাজনীতি করুন। কেন সাংবিধানিক পদকে নিচে নামাচ্ছেন?’
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র আপত্তি উপেক্ষা করে বৃহস্পতিবার সকালে বিএসএফের হেলিকপ্টারে চেপে কোচবিহার বিমানবন্দরে নামেন রাজ্যপাল। তাঁর সঙ্গে কোচবিহারের বিজেপি সাংসদ নিশীথ, শীতলকুচির বিধায়ক বরেণচন্দ্র বর্মন, মাথাভাঙার বিধায়ক সুশীল বর্মন ছিলেন। প্রথমে যান মাথাভাঙায়। সেখান থেকে শীতলকুচি বিধানসভা কেন্দ্রের ছোট শালবাড়ি এলাকায়। তবে যাঁকে নিজেদের কর্মী দাবি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের ঝড় তুলেছিল গেরুয়া শিবির, সেই মানিক মৈত্রের পরিবারের দেখা পাননি ধনকর। ভোট চতুর্থীর দিন যে বুথে গুলি চলেছিল, সেই জোড়পাটকিতে রাজ্যপালকে কালো পতাকা দেখান স্থানীয় নাগরিক মঞ্চের সদস্যরা। শীতলকুচিতে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করেন রাজ্যপাল।
রাজ্যে ভোট হিংসার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে কাঠগড়ায় তুলে বলেন, ‘ভোট পর্বে যেভাবে মুখ্যমন্ত্রী উস্কানিমূলক বক্তব্য রেখেছেন, তার ফলেই ভোটের পরে অশান্তির ঘটনা ঘটছে। সন্ত্রাসের তাণ্ডবনৃত্য চলছে। আইনের শাসন নেই। যারা আইন নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে তারা যেন শাস্তি পায়।’
বাংলায় ভোট পরবর্তী হিংসার পরে মানবাধিকার সংস্থাগুলি কেন তাঁর মতো অতি সক্রিয় হল না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান। রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসা মোকাবিলায় রাজ্য সরকারের ভূমিকাকে কলকাতা হাইকোর্ট প্রশংসা করলেও তা মানতে পারছেন না ধনকর। বরং তিনি পরোক্ষে আদালতের ক্লিনচিট নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর কথায়, ‘আমি ক্লিনচিট দেওয়ার মতো কিছুই দেখতে পাচ্ছি না।’

সফরের প্রথম দিনের শেষ লগ্নে দিনহাটা শহরেও বিক্ষোভের মুখে পড়েন রাজ্যপাল। তৃণমূল কর্মীরা রাজ্যপালের গাড়ির কনভয়কে লক্ষ্য করে ‘গো-ব্যাক’ স্লোগান দেন। আর তাতেই মেজাজ হারিয়ে ফেলে সোজা গাড়ি থেকে নেমে আসেন ধনকর। কিন্তু এদিন যেভাবে ভোট পরবর্তী হিংসা সরেজমিনে দেখতে বিজেপি নেতাদের সঙ্গে নিয়ে ঘুরে বেড়ালেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান, তাতে ফের একবার তাঁর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *