State

‘কখনও কখনও মানুষকে চুপ থাকতেও হয়’, মুকুলের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যে বাড়ল ঘরওয়াপসির জল্পনা

0
(0)

খবর লাইভ : বরাবরই সংসদীয় রাজনীতিতে স্বচ্ছন্দ তিনি। রাজ্যসভায় দীর্ঘদিন সাংসদ ছিলেন। অভিজ্ঞতা রয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরও। এবার তিনিই পরিষদীয় রাজনীতির আঙিনায়। শুক্রবার রাজ্য বিধানসভায় শপথ গ্রহণ করলেন কৃষ্ণনগর উত্তরের বিজেপি বিধায়ক মুকুল রায়। এদিন নদিয়ার বিধায়কদের শপথের কর্মসূচি ছিল। এই উপলক্ষে বিধানসভায় আসেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রীরা যে গেট দিয়ে বিধানসভায় প্রবেশ করেন, তিনিও ঢোকেন সেই গেট দিয়েই। এসেই তৃণমূল পরিষদীয় দলের ঘরে যান তিনি। সেখানে এক সরকারি আধিকারিকের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলে শপথগ্রহণ কক্ষে যান। সেখানে প্রোটেম স্পিকার সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের কাছে শপথগ্রহণ করেন। পরে অধিবেশন কক্ষে থাকা তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সির সঙ্গে সৌহার্দ্য বিনিময় হয় তাঁর। বিধানসভায় তৃণমূলের মুখ্যসচেতক নির্মল ঘোষের ঘরেও যান মুকুল। সেখান থেকেই বিধানসভা ছাড়েন তিনি। বঙ্গ রাজনীতির চাণক্যর এই কাণ্ড দেখে অনেকেই বলছেন, তাহলে কি ভোটযুদ্ধের শেষে এবার ‘ঘর-ওয়াপসি’-র পালা?
এদিকে বিধানসভা থেকে বেরোতেই সাংবাদিকরা চেপে ধরেন তাঁকে। কিন্তু মুকুল রায় ছিলেন মৌন। সেখানেই উড়ে এলো প্রশ্ন, ফের কি তিনি ফিরছেন ঘাসফুলেই? সংযমী মুকুল বলেন, ‘আমি আজ কিছু বলব না। মানসিকভাবে খারাপ সময় চলছে। যখন বলার হবে, তখন তোমাদের ডেকে নেব।’ এখানেই না থেমে তাঁর আরও সংযোজন, ‘মানুষের জীবনে এমন দু একটা দিন আসে যখন মানুষকে চুপ থাকতে হয়।’ ব্যস, তাতেই শুরু হয়ে যায় রাজ্য রাজনীতির আঙিনায় জোর জল্পনা।
চমক অবশ্য আরও বাকি ছিল। বিজেপির বিধায়কদের একটি বৈঠক ছিল বিধানসভায়। গেরুয়া শিবিরের সেই পরিষদীয় বৈঠকে বিজেপির সব বিধায়কেরই থাকার কথা ছিল। সেই বৈঠকে থাকার কথা ছিল রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের। কিন্তু মুকুলবাবু সেই বৈঠকে যোগ দেওয়া তো দূরের কথা বিজেপির পরিষদীয় দলের কক্ষেও যাননি। বরং সোজা চলে যান বিধানসভায় তৃণমূলের মুখ্যসচেতক নির্মল ঘোষের ঘরে। সেখানে সংক্ষিপ্ত বৈঠকও করেন তিনি। এর পরেই বেরিয়ে যান।
মুকুল রায়ের শরীরীভাষা এবং তাঁর মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র জল্পনা ছড়িয়েছে। তবে কি মুকুল তৃণমূলে ফিরছেন খুব শীঘ্রই? জল্পনা এও উঠছে, মুকুল যদি ঘাসফুলে পা রাখেন, তাহলে নিশ্চয় তিনি একা ফিরছেন না। সঙ্গে আনছেন বেশ কয়েকজন বিধায়ককে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই সংখ্যাটা ঠিক কত সেই হিসাব মেলাতেই এখন কার্যত রাতের ঘুম ছুটেছে বিজেপির। কেউ বলছেন সংখ্যাটা ১০-১২, কেউ বলছেন ২০-২২ আবার কেউ বলছেন ৩১। আদৌও সেটা সত্য নাকি জল্পনাই রয়ে যাবে, তা বলবে সময়ই।
যদিও এদিন একই প্রশ্ন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে করা হয়। তিনি বলেন, ‘মুকুল রায় কখনই বিধানসভার প্রতিনিধিত্ব করেননি। শরীরটাও ভাল নেই। তাই ফিরে গিয়েছেন।’ পোড় খাওয়া দুই রাজনীতিবিদের কথাতে অনেকেই বলছেন, ‘ডাল মে কুছ কালা হে!’

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *