খবর লাইভ : রেকর্ড সংখ্যক আসনে জিতে তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন। কিন্তু করোনার কালবেলার কথা মাথায় রেখে কোনও জমকালো অনুষ্ঠান নয়। বরং অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্যেই আজ সকাল পৌনে ১১টা নাগাদ টানা তৃতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিচ্ছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শপথ নেওয়ার পরেই সোজা নবান্নে চলে যাবেন তিনি। সেখানে পুলিশের অভিবাদন গ্রহণ করে ১৪ তলায় নিজের কক্ষে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
আজ মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণের মতো ঐতিহাসিক লগ্নে হাজির থাকার জন্য রাজভবনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই হাতেগোনা অতিথিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সূত্রের খবর, আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, বিসিসিআই সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের। যদিও সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা ভোটে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরি জানিয়েছেন, শপথগ্রহণের অনুষ্ঠানে হাজির থাকার জন্য কোনও আমন্ত্রণ পাননি তিনি। রাজ্যপালের পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের মতো ঐতিহাসিক মুহুর্তের সাক্ষী থাকতে ভোটকুশলী ও তৃণমূলকে তৃতীয়বার ক্ষমতায় ফেরানোর নেপথ্য কারিগর প্রশান্ত কিশোরকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। হাজির থাকবেন মমতার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য।
তবে মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তাঁর কথায়, ‘রাজ্যে প্রথমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করুন রাজ্যপাল। রাজ্যজুড়ে যে রাজনৈতিক আক্রমণ চলছে, তা বন্ধ করা হোক। তার পরে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হোক।’ দিলীপের এমন অদ্ভূত আবদারকে পাল্টা কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল নেতা তাপস রায়। তিনি শ্লেষাত্মক কণ্ঠে বলেছেন, ‘দিলীপ ঘোষ ভেবেছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হবেন। সেই স্বপ্ন সফল হয়নি, তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ আটকে কিছুটা সান্ত্বনা খোঁজার চেষ্টা করছেন।’
২০১১ সালে রাজ্যে প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতার উৎসবের সময়ে কার্যত বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসের সাক্ষী থেকেছিল রাজভবন। হাজার হাজার মানুষের ভিড়কে সঙ্গী করে সেদিন রাজভবন থেকে মহাকরণের অলিন্দে পৌঁছেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। কিন্তু এবার করোনার কারণে তৃণমূল নেতা ও কর্মীদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসকে নিয়ন্ত্রণেই রাখতে হচ্ছে।




