খবর লাইভ : প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের চোখ রাঙানির মধ্যেই বৃহস্পতিবার রাজ্যে অষ্টম তথা অন্তিম দফার ভোটগ্রহণ। রাজ্যের চার জেলা মালদা, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম ও কলকাতার ৩৫টি আসনের পাশাপাশি ভোট চতুর্থীর দিন কোচবিহারের শীতলকুচির যে বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে চার ভোটারের প্রাণ হারিয়েছিলেন সেই ১২৬ নম্বর বুথেও কাল ফের ভোট নেওয়া হবে। শেষ দফার ভোটে ভাগ্যপরীক্ষায় নেমেছেন ২৮৩ জন প্রার্থী। তার মধ্যে মহিলা প্রার্থী ৩৫ জন। কাল যাঁদের ভাগ্য ইভিএম বন্দি হচ্ছে তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী সাধন পাণ্ডে ও শশী পাঁজা, কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ বিবেক গুপ্তা। ২০১৬ ও ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মূলত রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটিতেই অন্তিম দফার ভোট হচ্ছে।
শেষ দফার ভোটে যাতে বড় ধরনের কোনও অশান্তির ঘটনা না ঘটে, তার জন্য যাবতীয় সতর্কতা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নিরাপত্তায় কোনও ফাঁকি রাখা হচ্ছে না। চার জেলার ৩৫ আসনে ১১ হাজার ৮৬০ বুথ পাহারায় ৬৪১ কোম্পানি আধাসেনা মোতায়েন করা হয়েছে। তার মধ্যে বীরভূমে ২২৪, কলকাতা উত্তরে ৯৫, মালদহে ১১০ এবং মুর্শিদাবাদে ২১২ কোম্পানি বাহিনী থাকছে। বীরভূম জেলা তৃণমূলের সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলকে নজরবন্দি করার পাশাপাশি লাল মাটির জেলায় ছয় জন বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষককে নিয়োগ করা হয়েছে। মূলত বীরভূম ও মুর্শিদাবাদে শান্তিতে ভোট করানোই নির্বাচন কমিশনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জের।
বঙ্গে চলতি ভোটের প্রথম সাত দফায় দাগি আর কোটিপতি প্রার্থীর যে আধিক্য লক্ষ্য করা গিয়েছিল, অষ্টম তথা অন্তিম দফাতেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। কাল ৩৫ আসনে ভাগ্যপরীক্ষায় নামা ২৮৩ প্রার্থীর মধ্যে ৫৫ জন কোটিপতি আর ৬৪ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। সবচেয়ে ধনী প্রার্থী বীরভূমের নলহাটি কেন্দ্র থেকে পদ্ম প্রতীকে লড়া তাপসকুমার যাদব ওরফে আনন্দ যাদব। তিন বা ততোধিক প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা থাকায় ১১টি আসনে ‘লাল সতর্কতা’ জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। ওই ১১টি আসন হল মুর্শিদাবাদের কান্দি, বহরমপুর, ভরতপুর, রেজিনগর, বীরভূমের লাভপুর, নলহাটি, মালদার ইংরেজবাজার, মোথাবাড়ি এবং উত্তর কলকাতার চৌরঙ্গি ও জোড়াসাঁকো।
অন্তিম দফায় যে ৩৫ আসনে ভোট হচ্ছে পাঁচ বছর আগে ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে তার মধ্যে ১৭টি আসনে জিতেছিল শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। আর বাম-কংগ্রেস জোট জয়ী হয়েছিল ১৭টি আসনে। তার মধ্যে কংগ্রেস জিতেছিল ১৩ আসনে, বামেরা জিতেছিল ৩টি আসনে। বিজেপির ঝুলিতে গিয়েছিল মালদার বৈষ্ণবনগর আসনটি। তিন বছর বাদে লোকসভা ভোটে অবশ্য চিত্র খানিকটা বদলে গিয়েছিল। ৩৫টি আসনের মধ্যে ১৯টিতে এগিয়ে ছিলেন ঘাসফুলের প্রার্থীরা। বিজেপি প্রার্থীরা এগিয়ে ছিলেন ১১টি আসনে। আর বাকি পাঁচটি আসনে এগিয়ে ছিলেন কংগ্রেস প্রার্থীরা। বামেদের খালি হাতেই ফিরতে হয়েছিল। তবে সেবার জোট না হওয়ায় বাম-কংগ্রেসকে মুখ থুবড়ে পড়তে হয়েছিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তবে এবার জোট হওয়ায় ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন তাঁরা।



