খবর লাইভ : ৩০ এপ্রিলের পর ভ্যাকসিনের সমস্ত স্টক সরকারকে ফেরত দিতে হবে বলে জানালো স্বাস্থ্য দফতর। পাশাপাশি ১ মে থেকে কী প্রক্রিয়ায় টিকাকরণ চলবে সে বিষয়ে একটি গাইডলাইন বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এদিন স্বাস্থ্য দফতর থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১ মে থেকে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে যে টিকাকরণ কার্যক্রম চলবে সেখানে সমস্ত ভ্যাকসিন ওই বেসরকারি হাসপাতালকে উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে কিনে নিতে হবে। এতদিন যাবৎ বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে যে টিকা সরকার সরবরাহ করত তা আর তারা সরবরাহ করবে না। একই সঙ্গে ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত টিকা দেওয়ার পর প্রত্যেক বেসরকারি হাসপাতালের ভাঁড়ারে যে টিকা থাকবে তা হাসপাতালকে সরকারের কাছে ফেরত পাঠাতে হবে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিপাকে পড়বে বেসরকারি হাসপাতাল থেকে টিকা নেওয়া সাধারণ মানুষ। কারণ এতদিন মাত্র আড়াইশো টাকাতে টিকার প্রথম ডোজ নিলেও এবার তা নিতে হবে বেশি টাকা দিয়ে। কারণ কেন্দ্রীয় সরকার বেসরকারি হাসপাতালে টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে টিকার দাম বেঁধে দিয়েছে। কো-ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে দাম ধার্য করা হয়েছে ১২০০ টাকা আর কোভিশিল্ডের ক্ষেত্রে দাম ধার্য করা হয়েছে ৬০০ টাকা। এর সঙ্গে সিরিঞ্জের দাম রয়েছে। সাধারণ মানুষকে বলা হয়েছে, ১ মে-র পর যদি টিকাকরণ বন্ধ হয়ে যায়, সাধারণ মানুষকে তা নোটিশ দিয়ে জানাতে হবে। আগে থেকে কো-উইন অ্যাপে বুক করে হাসপাতলে আসতে হবে। হাসপাতালে এসে সরাসরি ভ্যাকসিন নেওয়া যাবে না।
এদিকে সরকারি নির্দেশিকার ফলে চরম বিপাকে পড়েছে বেসরকারি হাসপাতালগুলো। তাদের মূল সমস্যা হল সিরিঞ্জ নিয়ে। কারণ ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলি সিরিঞ্জ প্রস্তুত করে না। সিরিঞ্জ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলি শুধু সরকারি সংস্থাকেই সিরিঞ্জ বিক্রি করে। এক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থাগুলো টিকা কিনতে চাইলেও কিভাবে সিরিঞ্জ পাওয়া যাবে তাই নিয়ে সমস্যা রয়েছে। জানা গিয়েছে, সরকারি হাসপাতালগুলো তরফ থেকে একত্রিত ভাবে রাজ্য সরকারকে এই অসুবিধার কথা জানিয়ে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন দেখার, শেষ পর্যন্ত এই বিজ্ঞপ্তি কার্যকর হলে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে আদৌ টিকাকরণ কর্মসূচি চালানো সম্ভব হয় কিনা।



