Special News Special Reports State

সাংবাদিকের পরিবারকে সামাজিক বয়কটের বিষয়ে দলীয় কর্মীদের উপর চরম ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী, ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

0
(0)

খবর লাইভ : সাংবাদিক পীযূষ চক্রবর্তীর পরিবারকে তৃণমূলের কিছু নেতাদ্বারা সামাজিক বয়কট ও তাঁর ভিটের উপর দিয়ে রাস্তা করার বিষয় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যে বা যাঁরা এই বেআইনি কাজের সঙ্গে যুক্ত তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রশাসনকে। এদিন একুশের সভা থেকেও অন্যায়কারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ ও প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি পরিবহন মন্ত্রী স্নেহাশীষ চক্রবর্তীও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের ও আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন পীযূষকে। তিনিও এই কাজের তীব্র নিন্দা করেছেন।

প্রসঙ্গত, গত মার্চ মাসের শেষ দিকে পীযূষের হুগলির জাঙ্গিপাড়ার রাধানগর গ্রাম পঞ্চায়েতের কৃষ্ণপুর গ্রামে পৈত্রিক বাড়ির ভিটের মাঝখান দিয়ে জোর করে রাস্তা করে হুগলি জেলা পরিষদ। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বিশ্বজিৎ পণ্ডিত, ঠিকাদার তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীর মণ্ডল ও রাধানগর অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি শিবশঙ্কর মণ্ডলের নেতৃত্বে আদালতের নির্দেশ (পারিবারিক জমি সংক্রান্ত একটি মামলায় বলা হয়েছে কোনও পক্ষই কোনও কাজ করতে পারবে না বা তৃতীয় কোনও ব্যক্তিও সেখানে কাজ করতে পারবে না।) অমান্য করেই ভিটের মাঝখান দিয়ে রাস্তাটির সিংহভাগ করে ফেলা হয়। যার বিরুদ্ধে পীযূষ হাইকোর্টে একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার ভিত্তিতে স্থানীয় রাধানগর গ্রাম পঞ্চায়েত, হুগলি জেলা পরিষদ, জাঙ্গিপাড়া বিডিও সহ একাধিক জায়গায় নোটিশ পাঠানো হয় আদালতের পক্ষ থেকে। আর এই নোটিশ পাঠানোর পরেই মামলা তোলার জন্য পীযূষের পরিবারের উপর সামাজিক বয়কটের নিদান দেন ওই তিনজন। রাধানগর গ্রাম পঞ্চায়েতের অফিসের মধ্যে মিনি ডিপ টিউবওয়েল মালিকদের বলা হয় পরিবারকে যেন চাষের জল না দেওয়া হয়। ট্রাক্টর মালিকদেরও বলে দেওয়া হয় তাঁদের জমি যেন না চষা হয়। শ্রমিকদেরও হুমকি দেওয়া হয়। সামাজিক বয়কটের জেরে বর্ষার ধান রোপন করতে পারেনি ওই সাংবাদিকের পরিবার। রাধানগর গ্রাম পঞ্চায়েতে দীর্ঘদিন ধরেই চরম দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আসছেন স্থানীয় লোকজন। মূলত জাহাঙ্গীর মণ্ডলের নেতৃত্বেই প্রায় ১১ বছর ধরে একের পর এক অনৈতিক কাজ হয়ে আসছে। এক সময় নিজের নামে ঠিকাদারি লাইসেন্স থাকলেও পরবর্তী সময়ে নিজের স্ত্রীর নামে লাইসেন্স করে একের পর এক সরকারি কাজে গরমিল করতে থাকেন। বাকি ঠিকাদারদের বঞ্চিত করে নিজের স্ত্রীর নামে ও তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের নামে ঠিকাদারির বরাত হাতাতে থাকেন জাহাঙ্গীর। যা নিয়ে দলের অন্দরে চরম অশান্তি লাগে। পঞ্চায়েতের মধ্যে জাহাঙ্গীরের ঠিকাদারি রাজ চলার কারণে বীতশ্রদ্ধ অনেক পঞ্চায়েত সদস্য ও সদস্যা। জাহাঙ্গীরের দুর্নীতি নিয়ে সোচ্চার অনেকেই।

এদিকে সামাজিক বয়কটের পরিপ্রেক্ষিতে পীযূষ পুনরায় হাই কোর্টে পিটিশন দাখিল করেন। মুখ্যমন্ত্রী, স্থানীয় জাঙ্গিপাড়া থানা, হুগলি জেলা পুলিশ সুপার, কলকাতা প্রেস ক্লাব, রাজ্যপাল এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছেও বিষয়গুলি জানিয়েছিলেন। ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর দফতর, মুখ্যমন্ত্রী দফতর, জাঙ্গিপাড়া থানা ও পুলিশ সুপারের অফিস থেকে যোগাযোগ করা হয় তাঁর সঙ্গে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। বেআইনি কাজে যাঁদের মদত রয়েছে তাঁদেরও ছাড়া হবে না বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন। এদিন একুশের সভা থেকেও তিনি সেই বার্তা দিয়েছেন।

মন্ত্রী স্নেহাশীষ চক্রবর্তীর পক্ষ থেকেও পীযূষকে ফোন করা হয়। তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর করতে বলেন। পাশাপাশি তাঁর নাম ভাঙিয়ে যদি কেউ চলে তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

হাই কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী সেলিম রহমান জানিয়েছেন, যে বা যাঁরা এই বেআইনি কাজের সঙ্গে জড়িত আদালত তাঁদের কাউকেই ছেড়ে কথা বলবে না, শুধু দেখে যান।

এদিকে পীযূষের ছোট কাকা মোহন চক্রবর্তীকে জোর করে কাগজে সই করানোর চেষ্টা করছেন জাহাঙ্গীর ও তাঁর লোকজন।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *