খবর লাইভ : বড় ধরনের অশান্তি ছাড়াই রাজ্যে শেষ হল সপ্তম দফার ভোট। পাঁচ জেলার ৩৪ আসনে রক্তপাত কিংবা প্রাণহানির ঘটনা এড়ানো সম্ভব হলেও কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে গুচ্ছ গুচ্ছ অভিযোগ উঠেছে। কোথাও ভোটারদের ভোটদানে বাধা দেওয়া, কোথাও বেছে বেছে তৃণমূল নেতাদের বাড়িতে গিয়ে ভাঙচুর চালানো আবার কোথাও বা তৃণমূল প্রার্থীদের বুথে ঢুকতে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনায় নাম জড়িয়েছে জওয়ানদের বিরুদ্ধে।
যদিও তদন্তের আগেই আধা সেনাদের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
রাজ্যে প্রথম ছয় দফায় বেনজির অশান্তির সাক্ষী থেকেছিল আমজনতা। সোমবার সপ্তম দফায় রাজনৈতিক সন্ত্রাস আর হিংসার আঁতুরঘর হিসেবে পরিচিত মুর্শিদাবাদ, মালদা ও পশ্চিম বর্ধমানে ভোট থাকায় বড় ধরনের অশান্তির আশঙ্কা করেছিলেন অনেকেই। যদিও দিনভর তেমন বড় ধরনের অশান্তির খবর মেলেনি। তবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে দাদাগিরির অভিযোগ করেছেন শাসকদলের নেতারা। মুর্শিদাবাদের রানিনগরে ভোটের সকালেই তৃণমূল কংগ্রেসের দুই নেতার বাড়িতে গিয়ে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ উঠেছে আধা সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। কলকাতায় রাজ্যের বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, রাসবিহারী কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমার, কংগ্রেস প্রার্থী আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়, দুর্গাপুর পূর্বের তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ মজুমদার, জামুড়িয়ার বাম প্রার্থী ঐশী ঘোষ- সবাই বুথে ঢুকতে গিয়ে আধা সেনার জওয়ানদের বাধার মুখে পড়েছেন।
শুধু তাই নয়, প্রথম ছয় দফার মতো এদিনও বহু জায়গায় প্রকৃত ভোটারদের বাধা দেওয়ার মতো মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। যদিও বাহিনীর পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। ভোট সপ্তমীতে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাজ্যের পাঁচ জেলায় গড়ে ভোট পড়েছে ৭৫.০৬ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে নবাবের জেলা মুর্শিদাবাদে। সেখানে ভোট পড়েছে ৮০.৩০ শতাংশ। দক্ষিণ দিনাজপুরে ভোট পড়েছে ৮০.২১ শতাংশ। মালদায় ৭৮.৭৬ শতাংশ। দক্ষিণ কলকাতায় ৫৯.৯১ শতাংশ ও পশ্চিম বর্ধমানে ৭০.৩৪ শতাংশ ভোট পড়েছে।
এদিন ভোটগ্রহণের সময়সীমা শেষ হওয়ার পরে সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক আরিজ আফতাব জানিয়েছেন, সপ্তম দফায় ভোট শান্তিপূর্ণ হয়েছে। কোথাও বড় ধরনের গণ্ডগোল হয়নি। মোট ৪১ জন পর্যবেক্ষক ছিলেন। দিনভর কমিশনের কাছে মোট ১১৪৬টি অভিযোগ জমা পড়েছে। ১৪৪ ধারা অমান্যের অপরাধে মোট ৭৪২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ৫৭টি বোমা উদ্ধার হয়েছে।



