খবর লাইভ : কেরলের সাংবাদিক সিদ্দিক কাপ্পানের স্ত্রী রাইহান্থ কাপ্পান আইনজীবী উইলস ম্যাথেউজের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এন ভি রামানাকে চিঠি লিখে জানিয়েছেন যে, কাপ্পানের ‘জীবন ভীষণ বিপদের মধ্যে’ এবং কাপ্পানের মুক্তির জন্য রামানার হস্তক্ষেপ চেয়েছেন রাইহান্থ। ওই চিঠিতে জানানো হয়েছে, করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন কাপ্পান। মথুরার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শয্যার সঙ্গে কাপ্পানকে পশুর মতো শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। নড়তে চড়তে দেওয়া হচ্ছে না তাঁকে। শৌচাগারে যেতে পারছেন না গত ৪ দিন ধরে। খাবারও খেতে পারছেন না। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। যদি এখনই কোনও পদক্ষেপ নেওয়া না হয় তাহলে কাপ্পানের মৃত্যুও ঘটতে পারে বলে চিঠিতে জানানো হয়েছে।
কাপ্পানের স্ত্রী আরও জানিয়েছেন, কাপ্পানের মুক্তি চেয়ে রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছিল ২০২০ সালের ৬ অক্টোবর। সেটি নিষ্পত্তি হওয়ার কথা চলতি বছরের ৯ মার্চ। অথচ ৭ বার তালিকাভুক্ত হয়েও এর কোনও মীমাংসা বা নিষ্পত্তি হয়নি। তাই এই চিঠিতে আবেদন করা হয়েছে যে, আশু প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়ে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে কাপ্পানকে মথুরা জেলে স্থানান্তরিত করা হোক যতদিন না এই মামলার নিষ্পত্তি হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক কাপ্পান লিখতেন মালয়ালম ভাষার সংবাদ সংস্থায়। গত বছর ৫ অক্টোবর উত্তর প্রদেশের পুলিশ তাঁকে ইউএপিএ ও দেশদ্রোহ আইনে গ্রেফতার করে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়, সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করতে কাপ্পান নাকি অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। আসলে কাপ্পান যাচ্ছিলেন হাথরসে যেখানে এক ১৯ বছরের মেয়েকে ঠাকুররা গণধর্ষণ করে খুন করেছিল। যাইহোক, এই বছর ২০ এপ্রিল কেরল ইউনিয়ন অফ ওয়ার্কিং জার্নালিস্ট সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে যাতে কাপ্পানকে দিল্লির এইমসে স্থানান্তরিত করা হয়, কারণ তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক।



