District

সর্বনাশ! জঙ্গিপুর হাসপাতালে নিজে নিজেই করতে হচ্ছে সোয়াব সংগ্রহ

0
(0)

খবর লাইভ : গলার ভেতরে কি ঢুকিয়ে নিজেদেরই করতে হচ্ছে সোয়াব সংগ্রহের কাজ। এমন চিত্র কোন প্রত্যন্ত গ্রামের স্বাস্থ্য কেন্দ্রের নয়। মারাত্মক এই ঘটনা ঘটছে মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর মহকুমা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে।
হাসপাতালের পাশে টিনের ছাউনি। সেখানেই রোগীদের লম্বা লাইন। রোগীদের সামনে দাড়িয়ে হাসপাতালে টেকনিশিয়ান রাহুল মুখোপাধ্যায়। তার সামনে রাখা সোয়াব পরীক্ষার কিট। তালিকা ধরে নাম ডাকছেন রোগীদের। তারপর করোনা পরীক্ষা করতে আসা রোগীরা একে একে কিট গলার ভেতর ঢুকিয়ে লালা সংগ্রহ করে নিজেরাই নির্দিষ্ট জায়গায় রেখে দিচ্ছেন। অনেকেই সঠিকভাবে লালা রস সংগ্রহ করতে পারছেন না। সেক্ষেত্রে আবার হিতের বিপরিতও হচ্ছে। অনেকেই এর ফলে অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিন্তু টেকনিশিয়ানের তাতে কোনও হেলদোল নেই। এই খবর প্রকাশের আসতেই নড়েচড়ে বসে স্বাস্থ্য দফতর। শোকজ করা হয় টেকনিশিয়ান রাহুল মুখোপাধ্যায় কে।
কেন এমন কাজ করছিলেন রাহুল? তার যুক্তি,” আমাদের পাঁচ জন কর্মীর মধ্যে চারজনই করোনা আক্রান্ত। যে গ্লাভস করে সোয়াব সংগ্রহ করি, তা নষ্ট হয়ে গেছে। মাইকের তার কেটে গেছে। ফলত সেটাও খারাপ। সকালে পিপিই কিট পরে বেশ কিছুক্ষণ নমুনা সংগ্রহ করেছিলাম। তারপর গরমে অসুস্থ বোধ করি। এরপর রোগীদের নিজেদেরকেই ওই কাজ করতে বলি।”
ঘটনা হল, করোনা পরীক্ষা করার জন্য ন্যাসো- ফ্যারিঞ্জিয়াল সোয়াব লাগে। ন্যাসো অর্থাৎ নাকের ভিতর আর ফ্যারিঙ্গিস মানে গলার থেকে লালা রস সংগ্রহ করা হয়। এর জন্য দরকার প্রশিক্ষণ। আরটিপিসিআর পরীক্ষার ফলাফল এর ওপর নির্ভর করে। ঠিকভাবে সোয়াব সংগ্রহ না করা হলে রিপোর্ট নেগেটিভ আসার সম্ভাবনা থাকে। করোনা পরীক্ষার জন্য সোয়াব সংগ্রহ করে তা মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়। সেখান থেকে রিপোর্ট পাঠানো হয় জঙ্গিপুর মহাকুমা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। হাসপাতাল সুপার সায়ন দাস বলেন, আমাকে নিয়ে প্রায়ই 50 জন করণা আক্রান্ত। এর ফলে হাসপাতাল চালানো মুশকিল হয়ে পড়েছে। তারমধ্যে ল্যাব টেকনিশিয়ান নিজেও অসুস্থ। ফলে রোগীদের নিজেদেরকেই ওই কাজ করতে হয়েছে। এমন কাজ ভবিষ্যতে যাতে না হয় সেদিকে নজর রাখা হবে।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *