খবর লাইভ : টিকার দাম ১ মে থেকে আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কেন্দ্র সরকার টিকা বিক্রেতাদের পূর্ণ ছাড় দিয়েছে এবং দামের ক্ষেত্রে কোনও রকম হস্তক্ষেপ করছে না। সরকারের এই টিকা-নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দলগুলি। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছেন, ”টিকার একটাই দাম নির্দিষ্ট করা দরকার সরকারের। তিনি টুইটে লিখেছেন, বিজেপি সব সময় চিৎকার করে এক দেশ, এক দল, এক নেতা, কিন্তু মানুষের জীবন বাঁচাতে টিকার একটাই দাম ধার্য করতে পারে না। বয়স, বর্ণ, জাতি, ভৌগলিক অবস্থান নির্বিশেষে প্রত্যেক ভারতীয়ের বিনামূল্যে টিকা দেওয়া দরকার। কেন্দ্র বা রাজ্য যে-ই মূল্য চোকাক না কেন, কোভিড টিকার একটাই মূল্য নির্দিষ্ট করতে হবে ভারত সরকারকে।
নয়া নীতি অনুযায়ী, টিকা প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলি ডোজের ৫০ শতাংশ দেবে কেন্দ্রকে এবং বাকিটা দেবে রাজ্য ও বেসরকারি সংস্থাগুলিকে। শুধুমাত্র রাজ্য সরকার ও বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে টিকা প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির কাছ থেকে উচ্চ দামে টিকা কিনতে হবে। গতকাল সিরাম ইন্সটিটিউট অফ ইন্ডিয়া জানিয়েছে, রাজ্যগুলিকে তারা ৪০০ টাকায় ও বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে ৬০০ টাকায় কোভিশিল্ডের ডোজ বিক্রি করবে। ভর্তুকি দামে কেন্দ্র টিকা পাবে। কোভিশিল্ড কেন্দ্র পাচ্ছে ১৫০ টাকায় ও ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিন কেন্দ্র পাচ্ছে ২০৬ টাকায়। এখনও পর্যন্ত রাজ্যগুলিকে বিনামূল্যে টিকা বিতরণ করছে কেন্দ্র সরকার। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে রাশিয়ার স্পুটনিক ভি টিকা ভারতে পাওয়া যাবে। স্পুটনিক ভি প্রস্তুতকারক সংস্থা ড রেড্ডিজ জানিয়েছে, সর্বোচ্চ ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি করা হবে এই টিকা। তবে দাম নিয়ে এখনও আলোচনা জারি আছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে লেখা এক চিঠিতে কংগ্রেস সভানেতৃ সনিয়া গান্ধি বলেছেন, এর অর্থ হল টিকা পেতে হলে নাগরিকরা উচ্চ দাম দিতে বাধ্য হবে। আবার রাজ্য সরকারগুলির রাজকোষেও টান পড়বে এর ফলে। এরপর তিনি কেন্দ্রের টিকা-নীতিকে ‘আশ্চর্যজনক’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, গত বছরের কঠিন শিক্ষার পরও খামখেয়ালি ও পক্ষপাতদুষ্ট নীতি অনুসরণ করে চলেছে কেন্দ্র সরকার। পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, একটি টিকা প্রস্তুতকারী সংস্থা একই টিকার তিন রকম দাম ধার্য করে কীভাবে?




