খবর লাইভ : চতুর্থ দফা ভোটের দিন কোচবিহারের শীতলকুচিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলি চালানো নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করে এবার কমিশনের শাস্তির মুখে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বঙ্গ বিজেপি সভাপতির নির্বাচনী প্রচারে ২৪ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধে ৭টা থেকে শুক্রবার সন্ধে ৭টা পর্যন্ত ওই নিষেধাজ্ঞা জারি থাকছে। কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে অবশ্য এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি শাস্তিপ্রাপ্ত বিজেপি নেতা। এই নিয়ে শীতলকুচি কাণ্ডে বঙ্গ বিজেপির দুই নেতা কমিশনের শাস্তির মুখে পড়লেন। এর আগে হাবড়ার বিজেপি প্রার্থী রাহুল সিনহাকে ৪৮ ঘণ্টার জন্য নিষিদ্ধ করেছিল কমিশন।
শীতলকুচিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নির্বিচারে গুলি চালানোর ঘটনা নিয়ে যখন উত্তাল রাজ্য রাজনীতি, ঠিক তখনই রাজ্য বিজেপির একের পর এক নেতা বেফাঁস মন্তব্য করতে শুরু করে দেন। ঘটনার পরের দিন রবিবার বরানগরে দলীয় প্রার্থী পার্নো মিত্রের প্রচারে গিয়ে বাংলাজুড়ে জায়গায় জায়গায় শীতলকুচি ঘটানোর হুমকি দিয়েছিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তাঁর ওই মন্তব্য নিয়ে রাজ্যজুড়ে নিন্দার ঝড় বয়ে যায়। বিজেপি রাজ্য সভাপতির প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে আর্জি জানায় তৃণমূল কংগ্রেস সহ একাধিক রাজনৈতিক দল। অভিযোগ পেয়েই নড়েচড়ে বসে কমিশন। বেফাঁস মন্তব্যের জন্য দিলীপকে শোকজ করা হয়। তার পরিপ্রেক্ষিতে যে জবাব দিয়েছেন বঙ্গ বিজেপি সভাপতি, তাতে সন্তুষ্ট হননি কমিশনের শীর্ষ আধিকারিকরা।
পাশাপাশি শীতলকুচিতে গুলি চালানোর ঘটনাকে তুলে ধরে তৃণমূলকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে বঙ্গ বিজেপির আর এক নেতা সায়ন্তন বসুকেও শোকজ করেছে কমিশন। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে ওই মন্তব্যের ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। উল্লেখ্য, শীতলকুচির ঘটনার পরেই জলপাইগুড়িতে গিয়ে তৃণমূলকে লক্ষ্য করে সায়ন্তন হুমকির সুরে বলেছিলেন, ‘আমি সায়ন্তন বসু বলে যাচ্ছি, বেশি খেলার চেষ্টা করবেন না। আমরা তাহলে শীতলকুচির খেলা খেলে দেব। ওরা সকালে ১৮ বছরের আনন্দ বর্মনকে মেরে ফেলে। প্রথমবারের ভোটার আনন্দ বিজেপির এক কার্যকর্তার ভাই ছিল। কিন্তু আমাদের বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। ওদের চারজনকে স্বর্গের রাস্তা দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে। শোলে ছবির একটা সংলাপ ছিল, তোমরা একটা মারলে আমরা চারটে মারব। শীতলকুচি সেটা দেখিয়ে দিয়েছে। আমাদের একটা মারলে আমরা কিন্তু চারটে মারব।’




