খবর লাইভ : রথযাত্রা, লোকারণ্য, মহা ধুমধাম, ভক্তেরা লুটায়ে পথে করিছে প্রণাম। পথ ভাবে ‘আমি দেব’, রথ ভাবে ‘আমি’। মূর্তি ভাবে ‘আমি দেব’—হাসে অন্তর্যামী। না, এবার অবশ্য রথযাত্রা নয়। লোকারণ্য কুম্ভমেলাকে ঘিরে। কোভিডের বাড়বাড়ন্তেও কোনও আক্কেল নেই প্রশাসনের। যার জেরে মাত্র দুদিনের মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ১০০০ জনের বেশি পুণ্যার্থী।এই পরিস্থিতিতে জল্পনা ছড়ায়, বুধবারই কুম্ভমেলা এবছরের মতো শেষ। উত্তরাখণ্ড সরকার ও ধর্মগুরুদের সঙ্গে আলোচনা করে এমন সিদ্ধান্ত নেয় সরকার বলে রটে যায়। যদিও সেই জল্পনাতে ছাই চাপা দিয়ে প্রশাসন জানিয়েছে, এখনই তেমন কোনও পরিকল্পনা নেই তাদের।
দেশে শুরু হয়েছে করোনা দ্বিতীয় ঢেউ। যার জ্বালায় ত্রস্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রক। বিশেষজ্ঞরা জমায়েত এড়ানো, মাস্কের ব্যবহার ইত্যাদির পরামর্শ দিচ্ছেন বারবার। কিন্তু এসব তোয়াক্কা করে কে! কুম্ভমেলায় যোগ দিয়েছেন অজস্র মানুষ। যা থেকে করোনা ছড়াচ্ছে হুড়মুড়িয়ে। কারণ যাঁরা শাহিস্নানে নেমেছেন, তাঁদের মুখে মাস্কের বালাই নেই, তা বলাবাহুল্য। ১০-১৩ এপ্রিল বিকেল ৪টের মধ্যে অন্ততপক্ষে ১ হাজার ৮৬জনের রিপোর্ট পজিটিভ ধরা পড়েছে। বুধবার শাহিস্নানে ফের নামে ঢল। মাত্র দুদিনের মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ১০০০ জনের বেশি পুণ্যার্থী।
উত্তরাখণ্ডের স্বাস্থ্য দফতর জানাচ্ছে, রাজ্যে ১৯২৫ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।মৃত্যু হয়েছে ১৩জনের। এর মধ্যেও হরিদ্বারে আরও একটি পুণ্যস্নানের ব্যবস্থা করা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই কুম্ভমেলাই করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে সুপার স্প্রেডার হয়ে উঠতে পারে। কেন্দ্রীয় সরকারের একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, বৈঠকের সময় এক সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন, যদি সরকারের তরফে নির্ধারিত সময়ের আগে কুম্ভমেলা শেষ করে না দেওয়া হয়, সেক্ষেত্রে তা ‘সুপার স্প্রেডার’-এ পরিণত হতে পারে। সূত্রের খবর, এই পরিস্থিতিতে সরকারের তরফে একটি দল গঠন করতে চলেছে ৷ ওই দলের কাজ হবে সব সাধু ও ধর্মীয় নেতাদের সাহায্য নিয়ে কুম্ভে মাস্ক পরা, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং করোনা সংক্রান্ত অন্যান্য বিধি নিষেধ মেনে চলার আবেদন করা৷
কুম্ভে ঢোকার বিভিন্ন প্রবেশপথে পুণ্যার্থীদের আরটিপিসিআর টেস্ট করার ব্যবস্থা আছে কিনা তার জন্য সরকারের তরফে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও বাস্তবে উঠে আসছে অন্য ছবি। মেলা চত্বরে প্রবেশের জন্য আরটিপিসিআর রিপোর্ট চাওয়া হচ্ছেই না। করা হচ্ছে না থার্মাল স্ক্রিনিংও। যদিও উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী তিরথ সিং রাওয়াতের অবশ্য দাবি, কেন্দ্র সরকারের কোভিড বিধির ১০০ শতাংশই মেনে চলা হচ্ছে কুম্ভ মেলায়।




