খবর লাইভ : একজন পিয়নের বেতন কত হতে পারে? হাজার ১৫ থেকে ৬০ হাজার, ৭০ হাজার, ৮০ হাজার! কিন্তু তার থেকে তো আর খুব বেশি বেতন হবে না একজন পিয়ন পোস্টে কর্মরত ব্যক্তির! তবে এই রকমই পিয়ন পোস্টে কাজ করা এক ব্যক্তির সম্পত্তি এখন ৪০০ কোটি টাকা। কিভাবে ওই পিয়ন এত টাকার সম্পত্তি বানালেন তা খুঁজতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে সরকারকে।
বিপুল সম্পত্তি বানানোর পাশাপাশি ওই পিয়নের চালচলন থেকে শুরু করে জীবনযাত্রা সবকিছুই বদলে গিয়েছে। এখন ওই পিয়ন হেলিকপ্টারে চড়ে সব জায়গা থেকে অন্য জায়গা যান। অথচ তিনি একসময় জল আনার কাজ করতেন। এই ঘটনা এখন রীতিমতো তোলপাড় শুরু করেছে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায়।
পিয়নের কাজ করা ব্যক্তি ৪০০ কোটি টাকার মালিক, হেলিকপ্টারের চড়েন, এসব ঘটনা অবশ্য ভারতের নয়। এমন ঘটনা ঘটেছে ভারতের পড়শী দেশ বাংলাদেশে। যে প্রাক্তন পিয়নের এমন সম্পত্তি রয়েছে তিনি হলেন পানি জাহাঙ্গীর। তাকে নিয়েই এখন মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। তার মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ানোর পিছনে অনেক কারণও রয়েছে। তবে তিনি সম্প্রতি সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়েছেন, হাতেনাতে দুর্নীতি ধরা পড়লে কোনভাবেই ছাড়া হবে না। যখন তিনি এই ঘটনায় হাত দিয়েছেন তখন শেষ দেখেই ছাড়বেন।
পানি জাহাঙ্গীর নামে ওই ব্যক্তির এত টাকার সম্পত্তি হলো কিভাবে? পানি জাহাঙ্গীর এক সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাড়িতে কাজ করতেন। তিনি এখন হেলিকপ্টার ছাড়া এক পা চলতে পারেন না। পানি জাহাঙ্গীরের আসল নাম জাহাঙ্গীর আলম এবং তিনি নোয়াখালির বাসিন্দা। তার বড় ভাই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং তিনি খিলপাড়া উপজেলার চেয়ারম্যান। শেখ হাসিনা যখন বিরোধী দলনেত্রী হিসেবে ছিলেন তখন পানি জাহাঙ্গীর তার বাসায় কাজ করতেন, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যখন শেখ হাসিনার জন্য খাবার, জল ইত্যাদি আনা হতো তখন জাহাঙ্গীর তা আনার কাজ করতেন। এছাড়াও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নেতাকর্মীদের জল খাওয়ানোর জন্য তার নাম হয়েছে পানি জাহাঙ্গীর।
জল, খাবার ইত্যাদি আনার কাজ করা জাহাঙ্গীর আলম এমন বিপুল সম্পত্তি বানিয়েছেন মনে করা হচ্ছে দুর্নীতির পথ ধরেই। তিনি গণভবনে থাকাকালীন নিজেকে অত্যন্ত শক্তিশালী বলে এলাকায় জাহির করতেন। এমনকি সরকারি কোন পদ অথবা পদবী না থাকলেও সরকারি সুযোগ-সুবিধা তিনি ভোগ করতেন। এছাড়াও সামাজিক থেকে শুরু করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি প্রধানমন্ত্রী ঘনিষ্ঠ বলেই নিজেকে পরিচয় দিতেন। এসবের পরিপ্রেক্ষিতেই তিনি নিজেকে প্রধানমন্ত্রী ঘনিষ্ঠ পরিচয় দিয়ে কোটি কোটি টাকা লুটেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। সেই সকল টাকা দিয়ে নোয়াখালী ও ঢাকায় বিপুল সম্পত্তি বানিয়েছেন তিনি।




