খবর লাইভ : লোকসভা নির্বাচনের পর এবার বিধানসভা নির্বাচনের আগেই বড় ধাক্কা খেল অজিত পাওয়ারের ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি। একযোগে ইস্তফা দিলেন দলের বড় চার নেতা। জল্পনা শোনা যাচ্ছে, তাঁরা শরদ পাওয়ারের এনসিপি-তে যোগ দেবেন। জানা গিয়েছে, মহারাষ্ট্রের পিম্পরি-চিঞ্চওয়াদ শাখার প্রধান অজিত গাভানে, পিম্পরির ছাত্র শাখার প্রধান যশ সানে এবং দুই প্রাক্তন কর্পোরেটর রাহুল ভোসলে ও পঙ্কজ ভালেকর ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই তাঁরা শরদ পওয়ারের দলে যোগ দিতে পারেন বলে জল্পনা।
শোনা যাচ্ছে, অজিত পাওয়ারের শিবিরের আরও কয়েকজন নেতা ফের শরদ পাওয়ারের দলেই ফিরে আসতে চাইছেন। তবে শরদ পাওয়ার তাদের দলে ফেরাবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। গত মাসেই তিনি বলেছিলেন যে যারা দলকে দুর্বল করেছে, তাদের আর দলে ফেরানো হবে না। তবে যে নেতারা দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করেনি বা করবে না এবং দলকে শক্তিশালী করবে, তাদের জন্য দরজা খোলা রয়েছে।
গত ১৩ অগস্ট পুণেতে কাকা-ভাইপোর সাক্ষাতের পরেই ‘পুনর্মিলনের সম্ভাবনা’ নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। শুক্রবার শরদ পাওয়ার সরাসরি দলে ভাঙনের কথা অস্বীকার করে জানিয়ে দিলেন, রাজনৈতিক অবস্থানে ফারাক থাকলেও তিনি এবং অজিত দু’জনেই এখনও এনসিপিতে রয়েছেন!শরদ কার্যত অজিতদের বিদ্রোহের প্রসঙ্গই অস্বীকার করলেন। তিনি বলেন, ‘‘যখন একটি দলে জাতীয় পর্যায়ে বিভাজন হয়, তখনই তাঁকে ভাঙন বলা যায়। এ ক্ষেত্রে তেমন কিছু হয়নি।’’
যদিও তথ্য বলছে, ইতিমধ্যেই ‘আসল এনসিপি’ হিসাবে স্বীকৃতি চেয়ে পতাকা এবং নির্বাচনী প্রতীক ‘ঘড়ি’-র অধিকার দাবি করে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে অজিত শিবির। অন্য দিকে, শরদ শিবির বহিষ্কার করেছে ‘বিদ্রোহী’ দু’জন সাংসদ এবং সাত বিধায়ককে। তবে সেই তালিকায় রয়েছেন প্রফুল পটেল, সুনীল তটকরে, ছগন ভুজবল, ধনঞ্জয় মুন্ডে, দিলীপ ওয়ালসে পাতিলের মতো নেতারা।
প্রসঙ্গত, লোকসভা নির্বাচনের আগেই, ২০২৩ সালে ভেঙে দুই টুকরো হয়ে যায় ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি বা এনসিপি। যেভাবে শিবসেনা ভেঙে দু’টুকরো হয়েছিল, ঠিক সেভাবেই শরদ পাওয়ারের ভাইপো অজিত পাওয়ার কাকার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে মহাযুতি জোটে যোগ দেন বিধায়কদের নিয়ে। তাঁকে উপমুখ্যমন্ত্রী করে দেওয়া হয়। বিধায়কের সংখ্যার জোরে আসল এনসিপির তকমাও ছিনিয়ে নেন অজিত পওয়ারের দল। তবে লোকসভা নির্বাচনে শরদ পওয়ারের এনসিপি যেখানে ৮টি আসনে জয়ী হয়, সেখানেই অজিত পাওয়ারের দল মাত্র একটি আসনে জিততে পারে।




