খবর লাইভ : বেআইনি মাটি কাটার প্রতিবাদ করে মাটি মাফিয়াদের হাতে আক্রান্ত হতে হয়েছিল হুগলির চণ্ডীতলা থানা এলাকার একটি পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে। এবার সেই বেআইনি মাটি কাটার প্রতিবাদ করে মাটি মাফিয়াদের হাতে নিগৃহীত হতে হল ধনিয়াখালি থানার দেধাড়া গ্রামের কয়েকজন গ্রামবাসীকে। তবে এতেই শেষ নয়, ওই গ্রামবাসীদের আক্রান্ত হবার খবর করতে গিয়ে আক্রান্ত হতে হল সাংবাদিকদেরও।
আরও পড়ুনঃ বাড়ছে তিক্ততা, সোশ্যাল মিডিয়ায় সৌরভকে আনফলো বিরাটের
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ রয়েছে, কোনও ভাবেই যেন বেআইনিভাবে মাটি কাটা না হয়। সেই নির্দেশ অমান্য করেই পুলিশ ও প্রশাসনের চোখের সামনেই হুগলির ধনিয়াখালি থানার বিভিন্ন জায়গায় রমরমিয়ে চলছে বেআইনিভাবে মাটি কাটার কাজ। এলাকার লোকজনের অভিযোগের পরেও কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না প্রশাসন বলে অভিযোগ। বেআইনি মাটি কাটার প্রতিবাদে প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ জানিয়েছিলেন দেধাড়া গ্রামের লোকজন। তাঁদের দাবি, দিবারাত্রি মাটির গাড়ি পাড়ার মধ্যে দিয়ে চলার জন্য যাতায়াত করা যাচ্ছে না। ঢালাই রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে। গ্রামবাসীরা অভিযোগ করার কারণে গত রবিবার ওই গ্রামের কয়েকজনকে মারধর করে মাটি মাফিয়া সুজিত পাকিরা ও তার লোকজন। ওই দুষ্কৃতীদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র এবং লোহার রড ছিল বলে গ্রামের লোকজনের দাবি। মহিলাদেরও ধর্ষণের হুমকি দেয় ওই দুষ্কৃতীরা। এলাকার লোকজন থানায় অভিযোগ জানাতে ভয় পেলেও সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খোলেন। ওই গ্রামের এক বাসিন্দা জানান, আগে এলাকায় তোলাবাজি ও দাদাগিরি করার অভিযোগে সুজিত ও তার সঙ্গীদের তৃণমূল থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। তারপর থেকেই তারা বেআইনিভাবে মাটি কাটার কাজ শুরু করে। পুলিশ জেনেও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।
এদিকে সোমবার গ্রামবাসীদের ওপর হামলার খবর করতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয় সুজিত পাকিরা ও তার সঙ্গীরা। বাইক, মোবাইল ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়। সুজিত নিজেকে স্থানীয় বিধায়ক অসীমা পাত্রের ডানহাত বলে দাবি করে বলতে থাকে, বেশ করছি বেআইনি কাজ করছি। আমাদের কোনও অনুমতি নিতে হয় না। কেউ তার কিচ্ছু করতে পারবে না। পুলিশ তাদের সঙ্গে আছে।
ধনিয়াখালি থানার ওসি সুব্রত দাস বলেন, অভিযোগ করলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব। পরে অবশ্য তিনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
ধনিয়াখালির বিধায়ক অসীমা পাত্র বলেন, সুজিত নামের কাউকে চিনি না। প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলবো।
এদিকে রাতের অন্ধকারে সিঙ্গুর থানার ছিনারমোড় এলাকাতেও বেআইনিভাবে মাটি কাটার কাজ চলছে। সেখানকার লোকজনও অতিষ্ট হয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতরে চিঠি পাঠিয়েছেন। এখন দেখার পুলিশ ও প্রশাসন আদৌ কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করে কিনা!




