খবর লাইভ : নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এবার অয়ন ঘনিষ্ঠ শ্বেতা চক্রবর্তীকে তলব ইডির। অয়নের ছেলে অভিষেক শীল, স্ত্রী কাকলি শীলকেও তলব ইডির। আগামী সপ্তাহে ৩ জনকে তলব ইডির। শুধু ২০১৪-এর টেট নয় ২০১২-এর টেটেও টাকা তোলা হয়েছে, আদালতে দাবি ইডি-র। ‘রাজ্যের আরবান ডেভেলপমেন্ট বিভাগের আধিকারিকের মেয়ের সঙ্গে পার্টনারশিপ অয়নের ছেলের’। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত জেল হেফাজতে অয়ন শীল।
অয়ন শীলের পুর নিয়োগ দুর্নীতির টাকা গিয়েছে কোন কোন প্রভাবশালীর কাছে? আদালতের কাছে সেই প্রভাবশালীদের নাম একে একে প্রকাশ করছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট । এই পুরসভার নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে কুন্তল ঘোষ ও শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়ও জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ ইডির। কুন্তল ও শান্তনুর মতো বড় ‘এজেন্ট’দের মাধ্যমে পুর দুর্নীতির বিপুল টাকা প্রভাবশালীদের হাতে যেত কি না, সেই তথ্যও জানার চেষ্টা করছেন ইডি আধিকারিকরা। তবে ইডির গোয়েন্দাদের মতে, শুধু পুরসভার নিয়োগের নাম করে কয়েকশো কোটি টাকারও বেশি তুলেছেন অয়ন শীল। গোয়েন্দাদের কাছে আসা হিসাব অনুযায়ী, এসএসসি, টেট-সহ শিক্ষক নিয়োগ ও পুরসভার দুর্নীতি মিলিয়ে প্রায় ৮০ কোটি টাকা কমিশন নিয়েছেন অয়ন নিজেই। এই বিষয়ে আরও তথ্য পেতে তৎপর গোয়েন্দারা।
পুরসভার দুর্নীতি নিয়ে ইডি তদন্ত শুরু করলেও সিবিআইকেও এই ব্যাপারে জানানো হয়েছে। ফলে সিবিআইও এই ব্যাপারে তদন্ত শুরু করতে পারে। তবে অয়ন শীলকে জেরা ও তাঁর সল্টলেকের অফিসে তল্লাশি করে ইডি যে নথি উদ্ধার করেছে, তাতে উঠে এসেছে টাকা লেনদেন সম্পর্কে প্রচুর তথ্য। তদন্তে জানা গিয়েছে, রাজ্যের প্রায় ৬০টি পুরসভার কর্মী নিয়োগ করে অয়ন শীলের সংস্থা। একেকটি পদের নিয়োগের জন্য চার থেকে আট লক্ষ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হত বলে অভিযোগ। সেইমতো পুর দুর্নীতি থেকে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা ও এসএসসি দুর্নীতি থেকে অন্তত ৩৫ কোটি টাকা কমিশন হিসাবে তুলেছেন অয়ন।
অয়নের দাবি, তিনি প্রত্যেক প্রার্থীর কাছ থেকে এক লক্ষ টাকা করে নিতেন। বাকি টাকার মধ্যে কমিশন দিতে হত এজেন্টদের। কিন্তু ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ টাকা যেত প্রভাবশালীদের কাছে। গোয়েন্দাদের মতে, সেই প্রভাবশালীদের মধ্যে যেমন রয়েছেন প্রত্যেকটি পুরসভার বিভিন্ন স্তরের কর্তা, তেমনই তার উপর মহলেও টাকা পৌঁছে যেত বলে দাবি তুলেছেন অয়ন।
মঙ্গলবার অয়ন শীলকে ব্যাঙ্কশালের বিশেষ ইডি আদালতে পেশ করা হবে। সেই সঙ্গে আদালতে কেস ডায়েরির মাধ্যমে সেই প্রভাবশালীদের নামও জানাতে পারে ইডি। এদিকে, শিক্ষক ও অশিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে সঙ্গে কীভাবে কুন্তল ঘোষ ও শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় অয়ন শীলকে পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতির ক্ষেত্রে সাহায্য করতেন, সেই তথ্যও গোয়েন্দারা জানার চেষ্টা করছেন।




