Special News Special Reports State

বিশ্বভারতীর লাগাতার অবনমনের জন্য প্রাক্তন উপাচার্য থেকে শিক্ষক-ছাত্ররা দায়ী! অন্যদের ঘাড়ে দোষ চাপালেন বিদ্যুৎ

0
(0)

খবর লাইভ : ফের বিশ্বভারতী উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর ১১ পাতার খোলা চিঠি নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। চিঠির শুরুতেই বিশ্বভারতীর মান পড়ে যাওয়া নিয়ে অন্যদের দূষলেন উপাচার্য। বুধবার একটি বিবৃতিতে তাঁর দাবি, বিদ্যাস্থান হিসেবে বিশ্বভারতীর ‘অধঃপতন অপ্রতিহত ভাবে’ ঘটেই চলেছে। এর জন্য ‘দায়ী’ বিশ্বভারতীর প্রাক্তন উপাচার্যেরা, ছাত্র-শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী থেকে শুরু করে বিশ্বভারতীর অংশীদার সবাই। তাঁর দাবি এরা সকলেই নানাভাবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফায়দা তোলার চেষ্টা করেছেন, অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য কিছুই করেননি।

এমনকি, বোলপুরবাসীকেও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধঃপতনের জন্য দায়ী করতে ছাড়েননি উপাচার্য।চিঠিতে তিনি লিখেছেন, “অধঃপতনের জন্য বোলপুর শহরের মানুষরাও কম দায়ী নন। তাঁদের কাছে বিশ্বভারতী হল সোনার ডিম পাড়া রাজহাঁসের মতো। তাঁরা লাভের কড়ির হিসাব নিয়েই মত্ত। কিন্তু, দিনে দিনে ক্ষীয়মান সেই রাজহাঁসের যত্ন-আত্তি বা পরিচর্যার জন্য তাঁদের কোনও অবদানই পরিলক্ষিত হয় না।”উপাচার্যের এই বিতর্কিত চিঠিটি প্রকাশ করা হয়েছে বিশ্বভারতীর ওয়েবসাইটে। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।

বিশ্বভারতীর ক্রম-অবনমন নিয়ে বিভিন্ন মহলে যথেষ্ট সমালোচিত বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। এনআইআরএফ অনুযায়ী এক দশক আগে যে প্রতিষ্ঠান ১১ নম্বরে ছিল, গত কয়েক বছরে সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শুধুই অবনমন ঘটেছে। ২০২০ সালে ৫০ নম্বরে ছিল বিশ্বভারতী। পরের বছর আরও নীচে নেমে হয় ৬৪। ২০২২-এ ৯৮ নম্বরে ঠাঁই হয়েছে বিশ্বভারতীর।২০২০ সালে প্রতিষ্ঠানের অবনমনের পর খোলা চিঠিতে উপাচার্য দাবি করেছিলেন, ‘‘অবনমনের দায় শুধু কর্তৃপক্ষের নয়। মান ধরে রাখার দৌড়ে পিছিয়ে পড়ার হেতু হল, বহির্বর্তীদের দৃষ্টিকোণে বিশ্বভারতীর ভাবমূর্তি, প্রাক্তনীদের সহযোগের কার্পণ্য এবং বিশ্বভারতীর গঠনমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের যথাযথ প্রতিবেদন অগোচরে থেকে যাওয়া।” বিশ্বভারতীতে দীর্ঘদিনের ‘ঘুঘুর বাসা’ ভাঙতে গিয়ে ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং আরও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজে মনোনিবেশ করতে পারেননি’ বলেও উপাচার্যের দাবি ছিল। এ দিনের খোলা চিঠির পরে আশ্রমিকদের প্রশ্ন, এই দু’বছরেও তা হলে ‘ঘুঘুর বাসা’ ভাঙতে পারলেন না উপাচার্য! তা হলে তিনি কী করলেন?

উপাচার্য অবশ্য এই চিঠিতে স্বীকার করে নিয়েছেন, যে বিশ্বভারতীর মান নামছে। তিনি লিখেছেন, ‘‘এ রকম একটা ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছে যে, অতীতের মতো আর নেই বিশ্বভারতী। ধারণাটা পুরো ভিত্তিহীন নয় কারণ এনআইআরএফ সূচক অনুযায়ী এর স্থান দিন দিন নীচে নেমে গিয়েছে। দু-একটি বিভাগ ছাড়া চাকরির দুনিয়ায় এখানকার ছাত্রদের কর্মসংস্থান বেশ কম হচ্ছে।’’এমনকি বিশ্বভারতীতে বাংলাদেশ ছাড়া অন্য দেশ থেকে ছাত্রদের পড়তে আসা কমে গেছে বলেও চিঠিতে লিখেছেন তিনি।
বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর এই খোলা চিঠি প্রসঙ্গে প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য সবুজকলি সেন বলেন, ‘‘ওঁর এই প্রলাপে আমার কোনও উৎসাহ নেই।’’ বিশ্বভারতীর শিক্ষক সংগঠন ভিবিইউএফএ-র সভাপতি সুদীপ্ত ভট্টাচার্যের দাবি, ‘‘এই অবনমনের জন্য সম্পূর্ণ ভাবে বর্তমান উপাচার্য দায়ী।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *