Special News Special Reports State

বাতিল চাকরি ফেরানোর ‘অনুরোধ’ আদালত অবমাননার সামিল, মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে বিকাশ

0
(0)

খবর লাইভ : চাকির হারাদের ফের আইনি পথে চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য গতকালই প্রস্তাব দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বক্তব্যের বিরুদ্ধেই আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করলেন আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য৷

গতকাল আলিপুর আদালতের বার অ্যাসোসিয়েশনের একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে কারও চাকরি বাতিল না করার আবেদন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই বক্তব্যের একাংশেই আপত্তি জানিয়ে এ দিন কলকাতা হাইকোর্টে স্বতঃপ্রণোদিত আদালত অবমাননার মামলা দায়েরের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য৷ বিচারপতি টি এস শিবাগনানমের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি৷ এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আগামিকালের মধ্যে হলফনামা দাখিল করার পরামর্শ দেন বিচারপতি।
গতকাল মুখ্যমন্ত্রী যখন বক্তব্য রাখছিলেন, তখন মঞ্চ উপস্থিত ছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সুব্রত তালুকদার৷ ঘটনাচক্রে, শিক্ষা সংক্রান্ত মামলায় সিঙ্গল বেঞ্চের রায় অখুশি হলে বিচারপতি সুব্রত তালুকদারের ডিভিশন বেঞ্চে দ্বারস্থ হন মামলাকারীরা।সেই বিচারপতিকে উদ্দেশ্য করেই গতকাল মুখ্যমন্ত্রী বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি এখানে নেই৷ আমি সুব্রতদাকে বলব,যিনি এখানে আছেন, এটা আমার ব্যক্তিগত মত, দয়া করে এত সহজে চাকরি কেড়ে নেবেন না।’যে বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে চাকরি সংক্রান্ত মামলাগুলি বিচারাধীন, তাঁকে উদ্দেশ্য করে মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য আসলে বিচার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা বলেই অভিযোগ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের৷ তাই মূলত মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যে আপত্তি জানিয়েই আদালত অবমাননার মামলা দায়েরের অনুমতি চাওয়া হয়েছে৷ এ ছাড়াও চাকরি বাতিল নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বাকি অংশ নিয়েও আপত্তি জানানো হয়েছে৷গতকাল আলিপুর বার অ্যাসোসিয়েশনের অনুষ্ঠানে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘অন্যায় করলে আমার গালে দুটো চড় মারলে কিছু মনে করব না। জেনেশুনে কোনওদিন কোনও অন্যায় করিনি৷ ক্ষমতায় আসার পর একটা সিপিএম ক্যাডারের চাকরি খাইনি, তোমরা কেন খাচ্ছ?
এর পরেই যাঁদের চাকরি যাচ্ছে তাঁদের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার পক্ষেও সওয়াল করেন মুখ্যমন্ত্রী৷ এ প্রসঙ্গে প্রাক্তন বিচারপতি অশোক গঙ্গোপাধ্যায়ের একটি রায়ের উদাহরণও দেন তিনি৷ মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, চাকরি সংক্রান্ত একটি মামলার রায়ে ভুল সংশোধনের পক্ষে রায় দিয়েছিলেন বিচারপতি, কিন্তু চাকরি বাতিলের নির্দেশ দেননি৷মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সবাই তো তৃণমূল, সরকারের ক্যাডার নয়৷ কালকেও দু’ জন সুইসাইড করেছে৷ যারা অন্যায় করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন৷ আমার তাদের জন্য কোনও দয়ামায়া নেই৷ কেউ ভুল করে থাকলে তার দায় তাঁরা নেবে কেন?

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *