খবর লাইভ : কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াইতে দেশে চলছে টিকাকরণ। মোদি সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে লাগাতার বিভিন্ন অভিযোগও উঠে আসছে। এরই মাঝে নয়া অভিযোগ কংগ্রেস নেতা গৌরব পান্ধির। গৌরবের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, ভারত বায়োটেকের কোভিড প্রতিষেধক ‘কোভ্যাকসিন’ তৈরি করতে ব্যবহার হচ্ছে গরুর বাছুরের সিরাম। আরটিআই করে পাওয়া জবাবের ভিত্তিতে এই দাবি করেছেন তিনি।
কংগ্রেস নেতার এই বক্তব্যের পর নতুন করে কোভ্যাকসিন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে৷ যার জেরে পাল্টা বিবৃতি দিতে হয় ভারত বায়োটেককে। সাফাই দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকও৷ কংগ্রেস নেতা গৌরব পান্ধি টুইটে দাবি করেছেন, ২০ দিনের চেয়ে কম বয়সের বাছুরের সিরাম কোভ্যাকসিনে ব্যবহার করা হয়। যদি এমনটাই হয়, তাহলে সরকার আগে কেন জানায়নি? কারণ এর ফলে ধর্মীয় ভাবাবেগেও আঘাত লাগতে পারে। তাঁর আরও দাবি, একটি আরটিআই-এর জবাবে মোদি সরকার স্বীকার করে নিয়েছে, কোভ্যাকসিনে গরুর বাছুরের সিরাম ব্যবহার করা হয়। ২০ দিনের চেয়ে কম বয়সের বাছুরকে মেরে তারপর তা ব্যবহার করা হয়। এটা জঘন্য অপরাধ। এই তথ্য প্রথমেই সামনে আনা উচিত ছিল। সিপাহি বিদ্রোহের আগে (১৮৫৭) এনফিল্ড রাইফেল নিয়ে এধরনের অভিযোগ উঠেছিল৷ গুজব ছড়িয়েছিল, এই রাইফেলের টোটায় গরু ও শূকরের চর্বি মিশ্রিত রয়েছে৷ সেই থেকেই ইন্ধন পেয়ে মহাবিদ্রোহের আগুন জ্বলে উঠেছিল৷
ভ্যাকসিন বিতর্কে পাল্টা সাফাই দিয়েছে ভারত বায়োটেক৷ সংস্থাটির তরফে জানানো হয়েছে, গরুর বাছুরের সিরাম ভ্যাকসিন তৈরির জন্য ব্যবহৃত হয়। আর তা ব্যবহার করা হয় কোষের বৃদ্ধির জন্য। তবে সার্স কোভ-২ ভাইরাসের বৃদ্ধি বা চূড়ান্ত ফর্মুলায় তা ব্যবহার করা হয়নি। এক্ষেত্রে ভারত বায়োটেকের দাবি, কোভ্যাকসিন পুরোপুরি শুদ্ধ টিকা। ভ্যাকসিন তৈরির জন্য বাছুরের সিরামের ব্যবহার বিশ্বব্যাপী বেশ কয়েক দশক ধরেই চলছে। গত প্রায় ৯ মাস ধরে এই বিষয়ে সর্বজনীন ভাবে তথ্যও দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে এই বিতর্ককে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তরজা। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক টুইটে দাবি করেছে, কোভ্যাকসিনের ফাইনাল প্রোডাক্টে বাছুরের সিরাম নেই। তথ্যকে ভুলভাবে তুলে ধরা হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।



