খবর লাইভ : উন্নাও, হাথরসের নারী নির্যাতনের ঘটনার পর সোমবারই যোগীর রাজ্যে সংখ্যালঘু এক বৃদ্ধকে হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে। সেইসব অস্বস্তির মধ্যেই প্রতাপগড়ে এক সাংবাদিকের রহস্যমৃত্যু! মদ মাফিয়াদের পর্দা ফাঁস করে রিপোর্ট লিখেছিলেন সাংবাদিক সুলভ শ্রীবাস্তব। তারপর থেকেই আসছিল হুমকি ফোন। পুলিশকে চিঠি লিখেছিলেন সুলভ। কিন্তু নিরাপত্তাব্যবস্থা হওয়ার আগেই মৃত্যু সংবাদ!
পুলিশের দাবি, এটা মোটর বাইক দুর্ঘটনা। কিন্তু মৃতের পরিবার তা মানতে নারাজ। তাঁর এই মৃত্যুর পিছনে মদ মাফিয়াদের হাত দেখছেন মৃতের পরিবার। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের প্রশাসনে সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিয়ে সরব হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধি। এডিটরস গিল্ডের বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাক স্বাধীনতার কথা বললেও দেশের সাংবাদিক ও কার্টুনিস্টদের সুরক্ষা নেই।
ঠিক কীভাবে হয়েছে ঘটনাটি? পুলিশের দাবি, রবিবার রাত ১১টা নাগাদ খবর কভার করে বাইকে করে বাড়ি ফিরছিলেন ওই সাংবাদিক। একটি ইটভাটার কাছে তিনি পড়ে যান। কয়েকজন শ্রমিক তাঁকে উদ্ধার করে। সুলভের ফোন থেকেই তাঁর বন্ধু-বান্ধবদের ফোন করেন শ্রমিকরা। তাঁরা অ্যাম্বুলেন্স ডাকেন। জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। পুলিশ বিষয়টিকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখাতে চাইলেও সুলভের স্ত্রী রেণুকা তা মানতে নারাজ। তাঁর দাবি, সুলভ প্রতাপগড়ে মদের চোরাচালান চক্র ও লিকার মাফিয়াদের নিয়ে একটি প্রতিবেদন করেছিলেন। তারপর থেকেই মাফিয়াদের হুমকি পাচ্ছিলেন। রেণুকার অভিযোগ, পুলিশকে জানানো সত্ত্বেও তারা কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। তিনি মনে করছেন, মাফিয়ারা তাঁর স্বামীকে খুন করেছে। ইতিমধ্যেই শনিবার পুলিশকে লেখা সুলভের একটি চিঠি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, ‘বাড়ি থেকে বেরোলেই মনে হয় কেউ আমাকে অনুসরণ করছে। সোর্স মারফত খবর পেয়েছি, আমার রিপোর্টিংয়ের পর মাফিয়ারা ছুটছে। তারা আমার ক্ষতি করার চেষ্টা করছে। আমার পরিবার খুব চিন্তিত। দয়া করে আমাকে সুরক্ষার ব্যবস্থা করুন।’
এ ঘটনায় শোকপ্রকাশ করে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী টুইটারে লেখেন, ‘সুলভ শ্রীবাস্তবের মৃত্যুতে আমি শোকাহত। গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা আমাদের মূলমন্ত্র হলেও যাঁরা সত্য উদ্ঘাটনের জন্য দিনরাত কাজ করে চলেছেন, তাঁদের জীবন রক্ষা করতে আমরা ব্যর্থ দেখে সত্যিই কষ্ট হয়।’ সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব বলেন, ‘সুলভের মৃত্যুতে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিক বিজেপি সরকার। সাংবাদিক প্রাণের আশঙ্কার কথা বলা সত্ত্বেও কেন তাঁকে নিরাপত্তা দেওয়া হল না, জানাক প্রশাসন।’ কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধি লিখেছেন, ‘মদ মাফিয়ারা আলিগড় থেকে প্রতাপগড় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। উত্তরপ্রদেশ সরকার চুপ। সাংবাদিকরা সত্যটা প্রকাশ্যে আনছেন। প্রশাসনকে সতর্ক করতে গিয়ে বিপদের মুখে পড়ছেন। সরকার ঘুমোচ্ছে। জঙ্গল রাজের পৃষ্ঠপোষক উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে কি শ্রীবাস্তবের পরিজনের চোখের জলের কোনও জবাব আছে?’



