Special News State

বাংলার পাশাপাশি ত্রিপুরাতেও বিজেপিতে ভাঙন ধরানোর লক্ষ্যে ঝাঁপাচ্ছেন মুকুল

0
(0)

খবর লাইভ : কথায় বলে রাজনীতি সম্ভাবনাময় শিল্প। আর সেই সম্ভাবনাময় শিল্পের অন্যতম তুখোড় শিল্পী মুকুল রায়। বিজেপিতে গিয়ে যে ‘অসম্মান আর অবজ্ঞা মিলেছে’ সুদে-আসলে তার জবাব পদ্ম শিবিরের নেতাদের ফিরিয়ে দিতে চান। আর ইতিমধ্যেই গোপনে নিজের কাজ শুরু করে দিয়েছেন তিনি।
সূত্রের খবর, শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, ত্রিপুরাতেও বিজেপিতে ভাঙন ধরানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন তিনি। গেরুয়া শিবির থেকে সম্ভাব্য কোন কোন বিধায়ক ও সাংসদকে ভাঙিয়ে আনা হবে তার এক তালিকাও শনিবার তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে তুলে দিয়েছেন মুকুল। সেই তালিকায় রাজ্যের ২৭ বিধায়ক ও এক সাংসদের নাম রয়েছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব অনুমতি দিলেই তিনি কাজ শুরু করে দেবেন বলে অভিষেককে জানিয়েছেন বঙ্গ রাজনীতির চাণক্য।
তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড হিসেবে এক সময়ে ত্রিপুরা সহ উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে দলীয় সংগঠন বিস্তারের গুরুদায়িত্ব পালন করেছিলেন মুকুল। তাঁর হাত ধরেই কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সমীর রঞ্জন বর্মনের পুত্র সুদীপ রায় বর্মন সহ বেশ কয়েকজন বিধায়ক। পরে অবশ্য তাঁরা তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। বিপ্লব দেবের নেতৃত্বাধীন সরকারে মন্ত্রীও হয়েছিলেন সমীর-পুত্র। যদিও পরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মনোমালিন্যের কারণে মন্ত্রিত্ব হারান তিনি। বর্তমানে ত্রিপুরা বিজেপিতে বিদ্রোহী নেতা হিসেবেই পরিচিত সুদীপ। শুধু সুদীপই নন, ত্রিপুরায় বিজেপির বেশ কয়েকজন বিধায়কের সঙ্গে মুকুলের সখ্যতা রয়েছে। এবার সেই সখ্যতাকে কাজে লাগিয়ে ওই বিধায়কদের ভাঙিয়ে আনতে চাইছেন তিনি। ইতিমধ্যেই ত্রিপুরায় নিজের ঘনিষ্ঠ বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে কথা বলেছেন মুকুল। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সবুজসঙ্কেত পেলেই ওই বিধায়কদের কলকাতায় নিয়ে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেওয়াতে চান তিনি।
কিন্তু একসময়ে যেহেতু সুদীপরা তৃণমূল থেকে রাতারাতি বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন, ফলে তাঁদের দলে ফিরিয়ে নিতে কিছুটা হলেও আপত্তি রয়েছে ঘাসফুল শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বের। তাই এ বিষয়ে কিছুটা ধীরে চলো নীতি নিয়ে মুকুলকে এগোনোর অনুরোধ জানিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ত্রিপুরার পাশাপাশি বাংলার ২৭ বিজেপি বিধায়ককেও ভাঙিয়ে আনতে ঝাঁপাচ্ছেন বাংলার চাণক্য। মুকুল ঘনিষ্ঠ এক নেতার কথায়, ‘একসঙ্গে যদি ২৭ বিধায়ক দলত্যাগ করে তৃণমূলে যোগ দেন, তাহলে তাঁদের ক্ষেত্রে দলত্যাগ বিরোধী আইন প্রযোজ্য হবে না। বিধায়ক পদ বেঁচে যাবে। সেই বিষয়টির উপরে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’
ত্রিপুরাতেও বিজেপিতে ভাঙনের লক্ষ্যে যে এগোচ্ছেন মুকুল রবিবার তেমনটাই দাবি করেছেন মেদিনীপুরের তৃণমূল বিধায়ক তথা অভিনেত্রী জুন মালিয়া। এদিন এক টুইটে তিনি লিখেছেন, ‘মুকুলের হাত ধরে ত্রিপুরায় বড় ভাঙনের মুখে বিজেপি, সরকার বাঁচাতে মরিয়া বিপ্লব দেব।’ যদিও যাঁর রাজনৈতিক ম্যাজিক দেখার আশায় তৃণমূল নেতা-কর্মীরা, সেই মুকুল অবশ্য মুখে কুলুপ এঁটেছেন।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *