Special News State

ক‍ুণালের বাড়িতে রাজীব! তবে কি সব জল্পনার অবসান‍?

0
(0)

খবর লাইভ : পদ্মে ম‍ুক‍ুল ঝরার পর থেকেই নত‍ুন জল্পনা সৃষ্টি হয় রাজনৈতিক মহলে। ম‍ুক‍ুল রায়ের মতো কি আরও অনেকেই রয়েছেন সেই তালিকায়‍? সেক্ষেত্রে সবার আগে যে নামটা উঠে আসে, তিনি হলেন ডোমজ‍ুড়ের পরাজিত পদ্ম প্রার্থী তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়।
এতদিন শোনা যাচ্ছিল। এবার প্রকাশ্যেই দেখা গেল। তৃণমূলের মুখপাত্র তথা সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের বাড়িতে চলে গেলেন রাজীব। আর তার জেরেই ছড়ালো জল্পনা। তৃণমূলে ফিরতে মরিয়া রাজীব কী নিজে থেকেই গিয়েছেন কুণালের বাড়িতে, নাকি প্রত্যাবর্তনের পূর্বে তৃণমূলের সঙ্গে আন অফিসিয়াল বৈঠক সারতে তিনি গিয়েছেন? এই প্রশ্নটাই উঠে গেল শনিবারের সাঁঝ বেলায়। ম‍ুক‍ুলের প্রত্যাবর্তনের পর আরও একটি জল্পনা ছড়ায়। তা হল, এবার তাহলে একে একে সব দলত্যাগীদেরই ফেরত নিতে পারে তৃণমূল‍? যদিও সেই ফেরার রাস্তা কতটা খোলা আছে তা নিয়ে কিন্তু প্রশ্ন আছে। সেই রকম অবস্থাতেই এদিন কুণালের বাড়িতে রাজীবের আগমন ঘটায় জল্পনা তো ছড়াবেই।

বস্তুত বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই জল্পনা ছড়িয়েছিল, তৃণমূলে ফিরতে চান রাজীব। আর তার জন্য তিনি তৃণমূলের বিভিন্ন নেতার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। তবে সবটাই ফোনে ফোনে কথাবার্তা। প্রকাশ্যে অন্তত রাজীবকে এর আগে কোনও তৃণমূল নেতার সঙ্গে দেখা যায়নি। কিন্তু এদিন সেই জল্পনাকে কঠিন বাস্তব করে দেখিয়ে দিলেন রাজীব। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কুণালের বাড়িতে কী নিজে থেকেই এসেছেন তিনি? সম্ভবত নয়, অন্তত তৃণমূল সূত্রে তেমনটাই জানা গিয়েছে। এটাই সম্ভবত আন অফিসিয়ালি রাজীবের সঙ্গে তৃণমূলের বৈঠক। এরপরে হয়তো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ঘটনা এটাই যে রাজীবকে নিয়ে ডোমজুড় এলাকার তৃণমূল নেতৃত্বের যেমন একটা তীব্র আপত্তি রয়েছে তেমনই হাওড়া জেলা নেতৃত্বের মধ্যেও রাজীবকে নিয়ে তীব্র আপত্তি রয়েছে। কিন্তু এটাও ঘটনা যে রাজীবকে নিয়ে ভিন্ন জেলার তৃণমূল নেতৃত্বের মধ্যে সেই রকম কোনও আপত্তি নেই। তাই হয়তো এমনটাও হতে পারে রাজীবকে তৃণমূলে ফেরালেও হাওড়া জেলার রাজনীতিতে তাঁকে হয়তো আর রাখা হবে না। প্রয়োজনে তাঁকে কঠোর ভাবে বলে দেওয়া হতে পারে যে হাওড়া জেলার রাজনীতি নিয়ে মাথা না ঘামাতে। সেক্ষেত্রে তাঁকে নদিয়া বা উত্তরবঙ্গের কোনও জেলার দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে তৃণমূলের সংগঠন মজবুত করার জন্য। তবে সবটাই নির্ভর করছে এদিনের বৈঠক কতটা সফল হল, দলে ফেরা নিয়ে রাজীব নিজে কী জানান, তৃণমূলের শর্ত তিনি মানতে পারবেন কী পারবেন না সেই সব বিষয়ের ওপরে।
রাজীবের ঘরে ফেরা নিয়ে আরও একটি ফ্যাক্টর চ‍ূড়ান্তভাবে কাজ করছে। সেটি হল, শ্রীরামপ‍ুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় রাজীবের কামব্যাককে কীভাবে নেবেন! শনিবারও কোন্নগরে অক্সিজেন পার্লারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসে রাজীবের বির‍ুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কল্যাণ। এদিন ক‍ুণাল আর রাজীবের সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে সাংসদ বলেন, ’রাজীব-কুণাল বলছে সৌজন্য সাক্ষাৎ। ওঁরা কী মনে করে ওঁরাই বুদ্ধিমান আর আমরা সব গরু ছাগল! গত পাঁচ ছ’মাসে কোনও সৌজন্যের সাক্ষাৎ দেখা গেল না, এখন মুকুলবাবু কাল এলেন, তারপর থেকেই সৌজন্য সাক্ষাতের বন্যা বইছে। আজকাল কে কার বন্ধু, কেই বা কার সঙ্গে লিভ টুগেদার করে তা গুলিয়ে ফেলি।‘ কথায় বলে, রাজনীতিতে কেউ কখনও চিরস্থায়ী বন্ধ‍ু বা শত্রু হয় না। এক্ষেত্রে জল কোন দিকে গড়ায়, তা জানতে অবশ্যই কিছ‍ুদিন অপেক্ষা করতেই হবে।
এপ্রসঙ্গে বলি, ক‍ুণালের লিভ ইন মন্তব্যে কি কিছ‍ু মনে পড়ল‍? নিশ্চয় পড়বে। গত দ‍ু-তিন দিন ধরে এখন এই শব্দ বেশ চর্চিত। কারণ না হয় উজ্ঝই থাকল। কথায় বলে, ‘সমঝদারো কে লিয়ে ইশারা হি কাফি।’

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *