খবর লাইভ : উত্তরবঙ্গে সবে মাত্র পা রেখেছে বর্ষা। দক্ষিণবঙ্গে বর্ষার আগমন কিছুটা দেরি হলেও প্রায় প্রতিদিনই বিকেলের পর থেকে কলকাতা-সহ একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হচ্ছে। সোমবার রাজ্যে বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে ২৮ জনের। কিন্তু কেন এতো বজ্রপাতের দাপাদাপি? আবহাওয়া বদল নাকি পরিবেশের কোনও বদল?
*বজ্রপাতের সংখ্যা*
ক্লাইমেট রেসিলিয়েন্ট অবর্জাভিং সিস্টেমস প্রোমোশন কাউন্সিল (সিআরওপিসি) এর চেয়ারম্যান সঞ্জয় শ্রীবাস্তবের দাবি, ২০১৯-২০ সালের তুলনায় ২০২০-২১ সালে বজ্রপাতের হার বেড়েছে ৯৯.৭৬ শতাংশ। মেঘ থেকে মাটিতে বাজ পড়েছে সেই সংখ্যাটা হল
পশ্চিমবঙ্গ ১১ লক্ষ ৭৬ হাজার ৮১০
ওড়িশা ১৬ লক্ষ ৫৭ হাজার ৬৩৮
অন্ধ্রপ্রদেশ ৭ লক্ষ ৮১ হাজার ৯৮৭
তামিলনাড়ু ৬ লক্ষ ৬২ হাজার ৮২১
কর্নাটক ৫ লক্ষ ২৬ হাজার ৪৯ (সূত্র : আন্তর্জাতিক সংস্থার ‘ইন্ডিয়া লাইটনিং রিপোর্ট প্রিভিউ, ২০২০’)
*কোন বাজ ক্ষতিকর?*
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজ ৩ ধরনের হয়।
১) মেঘ থেকে শুরু হয়ে অন্য মেঘে শেষ হওয়া
২) মেঘ থেকে শুরু হয়ে বাতাসে শেষ হওয়া
৩) মেঘ থেকে সরাসরি মাটিতে এসে পড়া। এই বাজটিই সবচেয়ে বেশি প্রাণঘাতি।
কেন বাজের পরিমাণ বাড়ছে?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর নেপথ্যে রয়েছে বিশ্ব উষ্ণায়ন।বায়ুর স্তরের মধ্যে তাপমাত্রার পরিবর্তন হলে অস্থিরতা বাড়ে। এরসঙ্গে দোসর হয় জলীয় বাষ্পের উপস্থিতি। যা বজ্রপাতের জন্য অনুকূল পরিবেশ গড়ে তোলে।
বজ্রপাতের সময় কী করবেন না?
• ঘরের মধ্যে সম্ভব হলে কংক্রিটের বাড়িতে আশ্রয় নিন।
• মাঠে বা খোলা জায়গায় কাজ করার সময় জড়োসড়ো হয়ে বসে পড়ুন। তবে ভুলেও মাটিতে শুয়ে পড়বেন না।
• যানবাহনের মধ্যে থাকলে জানালা বন্ধ করুন।
• বড় গাছের তলায় থাকবেন না। গাছ থেকে কমপক্ষে ১৫ ফুট দূরে থাকুন।
• ছেঁড়া বৈদ্যুতিন তার থেকে দূরে থাকুন।
• বজ্রপাতের সময় জলাশয় থেকে দূরে থাকুন।
• ওভারহেড বৈদ্যুতিন তার ও খুঁটি থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকুন।
• ওই সময় মাছ ধরা বন্ধ রাখুন।
• ছাতা বা ফোন ব্যবহার করবেন না।
ঘরের ভেতরে কী কী সতর্কতা মেনে চলবেন?
• বৈদ্যুতিন যন্ত্রপাতির প্লাগ লাইন থেকে বিচ্ছিন্ন রাখতে হবে।
• ছাদ, জানালা ও বারান্দা থেকে দূরে থাকুন।
• বৈদ্যুতিন ও ইলেকট্রনিক্স যন্ত্র ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।
• বাড়িতে বজ্র নিরোধকের ব্যবস্থা করুন।
*বজ্রপাতে আহতদের চিকিৎসা*
কোনও ব্যক্তির ওপর বজ্রপাত হলে তাঁর শরীরের ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ বয়ে যায়। ফলে হৃৎপিন্ড বন্ধ হয়ে যায়। আহত ব্যক্তির দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃৎস্পন্দন ফিরিয়ে আনতে কূত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যবস্থা করতে হবে। আহত ব্যক্তির হৃৎস্পন্দন স্বাভাবিক রাখতে কার্ডিও পালমোনারি রিসাসিটেশন (সিপিআর) দিতে হবে। যে ব্যক্তি আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁকে ছোঁয়ার ক্ষেত্রে কোনও বাধা নিষেধ নেই।




