State

ফের প্লাবনের আশঙ্কা! পরিস্থিতি সামাল দিতে ২৪ সদস্যের কমিটি গঠন মুখ্যমন্ত্রীর

0
(0)

খবর লাইভ : যশ পরবর্তী বাংলার দুই জেলা এখনও বেশ ভালো রকম ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে রয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার উপকূলবর্তী এলাকা রীতিমত এখনও ধ্বংসাবশেষ হয়েই রয়েছে। এই অবস্থায় আগামী ১১জুন ফের বড়সড় কোটালের সম্ভাবনা রয়েছে বঙ্গোপসাগর উপকূলীয় এলাকায়। তার জেরে এই দুই জেলার উপকূলবর্তী এলাকাগুলি আবারও প্লাবিত হতে পারে। সেই কথা মাথায় রেখেই এই ধরনের পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার মুখ্যমন্ত্রী ২৪ সদস্যের এক কমিটি গঠন করে দিলেন। কমিটির মাথায় রাখা হল নদী বিশেষজ্ঞ কল্যাণ রুদ্রকে। বাকি সদস্যরা কলকাতা, যাদবপুর-সহ একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের। ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রকৃতিই সহায়’ – এই আপ্তবাক্যকে মাথায় রেখেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকৃতি কীভাবে দুর্যোগ রুখতে পারে, তা নিয়ে পরিকল্পনা করতে এবং বাস্তবায়ন করতে ২৪ জনের এই কমিটি গঠন করেছেন।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠকে জানান, যশের জন্য প্রচুর ক্ষতি হয়েছে বাংলায়। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে। এখনও ওই দুই জেলার ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় জল জমে রয়েছে। জলের উপর জল জমেছে, যা বের করা সহজ নয়। ১১ তারিখ আবার বান আসছে। যশের সময়ে ২৬ তারিখের বানে যা ক্ষতি হয়েছে তার চেয়েও বেশি ক্ষতি হতে পারে। তাই আমাদের কিছু পদক্ষেপ করতে হবে। প্রাকৃতির দুর্যোগ মোকবিলায় দিঘা ও সুন্দরবনের জন্য মাস্টারপ্ল্যানের আবেদন জানিয়েছি কেন্দ্রের কাছে। জানি না পাবো কিনা। নিচু এলাকায় থাকা টিউবওয়েল খারাপ হয়েছে। পিএইচইকে দেখতে হবে উঁচু জায়গায় টিউবওয়েল বসানো যায় কিনা। ইটভাটাকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। ১০০ দিনের কাজ বাড়াতে হবে। যশ পরবর্তী পরিস্থিতিকে সামাল দিতে ১০০ দিনের কর্মীদের কাজ করতে হবে। মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে বলে দিয়েছি। যশ পরিস্থিতি মোকাবিলার ৫০ শতাংশ কাজ সম্পূর্ণ হবে ১০ জুনের মধ্যে। তবে মহেশতলা এলাকার কাজ শেষ হতে ২৩ জুন হয়ে যাবে। মৌসুনি ও সাগর দ্বীপের কিছুটা অংশের কাজ শেষ হতে সময় লাগবে ৩১ জুলাই পর্যন্ত। ওই দুটো দ্বীপে ২০ হাজার লোক আছে। ১১ তারিখের আগে তাঁদের উদ্ধার করতে হবে। ১৮ জুন পর্যন্ত ত্রাণের আবেদন নেওয়ার কাজ চলবে, যেখানে যেখানে বান আসবে সেখানে ১১-১২ জুন আবেদনের কাজ বন্ধ থাকবে।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী নদী ও সাগর বাঁধ শক্তপোক্ত করার জন্য সেখানে ভেটিবার ঘাস রোপণের পরামর্শ দিয়েছেন সেচ আধিকারিকদের। সেই সঙ্গে তাঁদের এটাও জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা না করে ডিভিসি যেন জল না ছাড়ে। এই বিষয়ে প্রতিনিয়ত নজর রাখতে হবে বলেও তিনি জানান। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানান, এবার থেকে গঙ্গা ও দক্ষিণবঙ্গের খালগুলির সংস্কারে বিশেষ উদ্যোগী নেবে রাজ্য সরকার। বিশেষজ্ঞ কমিটি তৈরি করে তা সংস্কারের ভাবনাচিন্তাও করা হচ্ছে। গঙ্গাকে কীভাবে পরিষ্কার রাখা যায়, সে বিষয়ে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি পরিকল্পনা তৈরি করবে বলেও এদিন জানিয়েছেন মু্খ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বছরের পর বছর খাল সংস্কারের কাজ করা হলেও জল জমে বিপাকে পড়তে হয় একাধিক এলাকার মানুষজনকে। সামান্য বৃষ্টিতেও বিপাকে পড়েন তাঁরা। বর্ষার সময় সে সমস্যা যে আরও কয়েকগুণ বাড়ে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। এই পরিস্থিতিতে এদিন ফিরহাদ হাকিমের কাছ থেকে খাল এবং গঙ্গা সংস্কার সংক্রান্ত তথ্য চান মুখ্যমন্ত্রী। আর তখনই মন্ত্রী জানান, গত ৩৪ বছরে পরিকল্পনা নেওয়া হলেও তার বাস্তবায়ন হয়নি। পূর্ত দফতরের ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন মমতা। তবে অবশ্যই সৎ ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত কাজ শুরুর কথা বলেন তিনি। এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যও। অল্প বৃষ্টিতেই হাওড়ার যেসব এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে, সেদিকে নজর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ব্যারাকপুরের পরিস্থিতিও তথৈবচ বলেই জানান মন্ত্রী। সেকথা শোনার পরই ব্যারাকপুর ও হাওড়ার জন্য দুটি পৃথক মাস্টারপ্ল্যান তৈরির কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে সংস্কারের আর্থিক জোগান কীভাবে হবে সে বিষয়েও ভাবনাচিন্তা করার কথা বলেন তিনি। অনেক সময় বহু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এই সমস্ত উদ্যোগে সহযোগিতার হাত বাড়ায় তাই অর্থের জোগানের ক্ষেত্রে তাদের কাছে আর্জি জানানোর কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *