State

পায়ে পড়ার দরকার নেই, সংবিধান মেনে চলুন’, মমতাকে পাল্টা শুভেন্দু

0
(0)

খবর লাইভ : বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘মিথ্যাবাদী’ প্রমাণে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে শনিবার আসরে অবতীর্ণ হলেন শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর সাংবাদিক বৈঠক শেষ হওয়ার ঘন্টাখানেক পরে পাল্টা সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ‘বিশ্বস্ত পাত্র’ তথা নন্দীগ্রামের বিধায়ক অভিযোগ করেছেন, ‘সাংবাদিক সম্মেলনে শুক্রবারের ঘটনা নিয়ে অসত্য কথা বলছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সংবিধান মানছেন না। তাঁর আচরণ দুঃখজনক, লজ্জাজনক। গোটা দেশের কাছে বাঙালির মাথা হেঁট করে দিয়েছেন।’ সেই সঙ্গে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানকে ধৃষ্টতামূলকভাবে পরামর্শ দিয়েছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর পায়ে পড়ার দরকার নেই। শুধু সংবিধান মেনে চলুন।’

বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ কিংবা অন্যান্য মুখপাত্ররা থাকতে শুভেন্দু অধিকারীকে দিয়ে কেন সাংবাদিক সম্মেলন করালেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। সূত্রের খবর, বাংলায় বিপুল জনাদেশ নিয়ে আসা তৃণমূল সরকারকে যেভাবে দলের শীর্ষ নেতারা লাগাতার অপদস্থ করে চলেছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব, তাতে বেজায় বিরক্ত রাজ্য বিজেপির অধিকাংশ নেতা। অনেকেই সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যসচিবের বদলি নিয়ে অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখে পড়তে চাননি। তাই সুকৌশলে সাংবাদিক সম্মেলনে হাজির হওয়া এড়িয়ে গিয়েছেন।মুখ রক্ষায় শেষ মুহুর্তে আসরে নেমেছেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক।

এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী কলাইকুণ্ডার প্রশাসনিক বৈঠকে রাজ্যের বিরোধী দলনেতাকে ডাকা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে কেন গুজরাত ও ওড়িশার প্রশাসনিক বৈঠক বিরোধী দলনেতাদের ডাকা হলো না, সেই প্রশ্নও তুলেছিলেন। তার জবাবে নন্দীগ্রামের বিধায়ক বলেন, ‘উনি (মমতা) ঠিকমতো জানেন না। ওড়িশাতেও বিরোধী দলনেতাকে বৈঠকে ডাকা হয়েছিল। কিন্তু কোভিড হওয়ার কারণে তিনি বৈঠকে হাজির হতে পারেননি। তাছাড়া এই রাজ্যেও প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা সাংসদ অধীররঞ্জন চৌধুরীকে ডেকেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকায় তিনি আসতে পারেননি। আসলে নন্দীগ্রামে হেরেছেন বলেই আমায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে মানতে চান না মাননীয়া। একজন অনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী মানুষের ভোটে নির্বাচিত বিরোধী দলনেতাকে অস্বীকার করতে পারেন না।’

এবারেই প্রথম নয়, অতীতেও একাধিকবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অপমান করেছেন বলে অভিযোগ তুলে শুভেন্দু বলেন, ‘এই প্রথম নয়। প্রধানমন্ত্রীকে অনেক বার অপমান করেছেন মমতা। গঙ্গা সংস্কার থেকে কোভিড মোকাবিলার বৈঠকে গরহাজির থেকেছেন তিনি।’ প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে যোগ না দিয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিব ঠিক করেননি বলেও নিদান দিয়েছেন শিশিরপুত্র। তাঁর কথায়, ‘যে কোনও আমলার উচিত সব দলকেই সম্মান জানানো। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বেরিয়ে গিয়ে ঠিক করেননি মুখ্যসচিব।’

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *