খবর লাইভ : যশের দরুণ শুধু বাংলার জনজীবনই ব্যাহত হয়নি, ধাক্কা লেগেছে বিজেপির অভ্যন্তরীণ সমীকরণেও। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে এখন ক্রমশই কদর বেড়ে চলেছে শুভেন্দু অধিকারীর। আর দর ক্রমশই কমছে দিলীপের। আর সেই বদলে যাওয়া সমীকরণের জেরেই এখন রাজ্য বিজেপিতে উথালপাথাল দশা।
তুলনায় এখন কোনঠাসা দশা কাটিয়ে অনেকটাই প্রাণ ভরে শ্বাস নিতে পারছেন আদি বিজেপির নেতারা। আর ভালো আছেন শুভেন্দুর অনুগামীরা। যদিও বিজেপিতে তাঁদের সংখ্যা এখন ক্রমশ কমছে। কারণ অনেকেই বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ফিরে আসতে চাইছেন। এই পরিস্থিতিতে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে শুভেন্দুর গুরুত্ব বেড়ে যাওয়া বিষয়টি আলাদা করে নজর কেড়েছে।
রাজ্য বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে দিলীপ অপেক্ষা শুভেন্দুর গুরুত্ব যে বেড়ে গিয়েছে সেটা বেশ ভালো বোঝা গিয়েছে এদিন পশ্চিম মেদিনীপুরের কলাইকুণ্ডার বৈঠকে দিলীপকে না ডাকার বিষয়টিতে। কলাইকুণ্ডা দিলীপের সংসদীয় এলাকার মধ্যেই পড়ে। সেখানেই এদিন ওড়িশা ফেরত প্রধানমন্ত্রী আসছেন ও যশের জেরে রাজ্যে ক্ষতির পর্যালোচনা সংক্রান্ত এক বৈঠকে যোগ দেবেন। সেই বৈঠকে থাকার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কিন্তু বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারীকে প্রধানমন্ত্রীর তরফে ডেকে পাঠানোয় সেই বৈঠকে সম্ভবত থাকছেন না মমতা। যদিও শুভেন্দু সেই বৈঠকে থাকছেন বলেই জানা গিয়েছে। আবার দিলীপ নিজেই জানিয়ে দিয়েছেন তাঁকে বৈঠকে ডাকাই হয়নি। আর এই বিষয়টিই এখন সবার নজর কেড়েছে। দিলীপ এখনও রাজ্য বিজেপির সভাপতি ও মেদিনীপুরের সাংসদ। তাঁকে বৈঠকে ডাকা হলেও হয়তো মমতা আপত্তি তুলতেন। কিন্তু সম্ভবত বৈঠক এড়িয়ে যেতেন না। কিন্তু শুভেন্দুর ক্ষেত্রে তিনি সেই পথেই হাঁটা দিতে চলেছেন।
আর এই অবস্থায় অনেকেই মনে করছেন, মমতাকে আগামিদিনে আরও অস্বস্তিতে ফেলে দিতেই বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ইচ্ছাকৃত ভাবেই শুভেন্দুকে এখন বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে। এমনিতেই নন্দীগ্রামে মমতাকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন শুভেন্দু, তারওপর ক্রমশই সংখ্যালঘু বিরোধী মুখ হয়ে উঠছেন এই রাজ্যে। এই দুই ক্ষেত্রকেই কাজ লাগাতে চাইছে বিজেপি। শুভেন্দুকে সামনে রেখেই বাংলায় নিজেদের সংগঠন বাড়াতে চাইছে বিজেপি। ২০১৬ সালে তাঁদের মাত্র ৩জন বিধায়ক ছিল। এখন তা বেড়ে হয়েছে ৭৫। এই জায়গা থেকেই বিজেপি বাংলা দখলের পথে ঝাঁপ দিতে চাইছে শুভেন্দুকে সামনে রেখেই।
গেরুয়া শিবির সূত্রে খবর, দিলীপ ঘোষের বেশ কিছু কাজের জেরে ও মন্তব্যের জেরে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাঁর ওপর খুবই অসন্তুষ্ট। তাঁর পেশ করা রিপোর্ট কার্যত রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের সঙ্গে কিছুই মেলেনি। অথচ দিলীপেরা যখন যা চেয়েছেন, যা বলেছেন সবই দিয়েছেন, শুনেছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। কিন্তু রেজাল্ট তো জিরো। তাই স্বাভাবিক ভাবেই কদর কমেছে দিলীপের। অনেকেরই আশঙ্কা এবার হয়তো রাজ্য সভাপতির পদটিও যাবে।



