খবর লাইভ : কোভিডের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে গত বছর এপ্রিল-মে মাসে চলছিল লকডাউন পরিস্থিতি। জনজীবন স্তব্ধ হতেই হুড়মুড়িয়ে কমতে থাকে দূষণের মাত্রা। গঙ্গার জল সেই সময় কাঁচের মতো স্বচ্ছ। কিন্তু লকডাউন পরিস্থিতি কাটিয়ে নিউ নর্মাল শুরু হতেই ধরা পড়েছে এক ভয়ঙ্কর উল্টো ছবি।করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়তেই দেখা যাচ্ছে উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতে গঙ্গার স্বচ্ছতার সেই ছবি ভ্যানিস! রঙ বদলে গেছে জলের। নদীর দিকে তাকালেই দেখা যাচ্ছে জলের রঙ সবুজ! জলের রঙ এমন সবজে হতেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মনে।
জলের কোনও রঙ নেই। ছোটো থেকে একথা প্রায় সবারই জানা। কিন্তু বারাণসীতে গিয়ে গঙ্গার দিকে তাকালে, এমন কথা বলতে পারবেন না।কারণ সেখানকার ৮৪টি ঘাটেই এখন জলের রঙ সবজে। কেন এমন হচ্ছে? বিজ্ঞানীরা বলছেন, যদি দীর্ঘ সময় ধরে জলের রঙ এমন থাকে, তাহলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার। সেক্ষেত্রে জল বিষিয়েও যেতে পারে। লবকুশ সাহানি নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলছেন, ”গঙ্গার জল সবুজ হওয়াটা নতুন কিছু নয়। বর্ষা এলেই পুকুরের শ্যাওলা, গঙ্গার জলে মিশে যায়। তবে সেটা দেখা যেত কয়েকটি ঘাটের ক্ষেত্রেই। কিন্তু এবার সব কটি ঘাটেই একই ছবি দেখা যাচ্ছে। জল থেকে একটা বাজে গন্ধও পাওয়া যাচ্ছে। সাধারণ মানুষকে এরফল ভুগতে হচ্ছে।”
বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মালব্য গঙ্গা রিসার্চের সভাপতি বিডি ত্রিপাঠী বলেন, পুকুর বা খালের জলের এমন সবুজ রঙ দেখা যায়। কিন্তু গঙ্গায় এমনটা দেখা যায়না। তবে জলের গতি কমলে এটা হতে পারে। খুব বেশি সময় যদি এমন সবুজই থেকে যায়, তাহলে জলে নিউরোটক্সিন মাইক্রোসিস্টিন মিশতে পারে। ফলে জল বিষাক্ত হতে পারে।”
পরিবেশ বিজ্ঞানী ড. কৃপা রাম বলেন, বর্ষার সময় বদ্ধ জলাশয়, ক্ষেত বা সেচের জল থেকে শ্যাওলা ভেসে আসে গঙ্গায়। সেখানে ফসফেট, সালফার পেয়ে তারা চটপট বেড়ে ওঠে।” এর সঙ্গে তাঁর সংযোজন, উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে এমন চিত্র দেখা যায়। এই রকম জলে স্নান করলে চামড়ার অসুখ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। পাশাপাশি এই রকম জল খেলে তা লিভারেরও ক্ষতি করবে বলে দাবি ওই বিজ্ঞানীর।



