খবর লাইভ : ভারতের করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের যে পরিসংখ্যান তার থেকে অনেক গুণ বেশি প্রকৃত সংখ্যা। আমেরিকার প্রসিদ্ধ সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা আরও ভয়ঙ্করভাবে বৃদ্ধি পাবে যদি সঠিকভাবে তথ্য রেকর্ড সংগ্ৰহ করে দেখা হয়।
২৪ মে পর্যন্ত ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কোভিড-১৯ নিয়ে যে তথ্য জানানো হয়, তাতে উল্লেখ রয়েছে আক্রান্তের সংখ্যা ২ কোটি ৬৯ লক্ষ ৪৮ হাজার ৮০০ এবং মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৩ লক্ষ ৭ হাজার ২৩১ জন। কিন্তু আমেরিকার এই পত্রিকা লিখেছে, এই সংখ্যা কমপক্ষে আরও ৩ গুণ হতে পারে। অপরদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও জানিয়েছে করোনা মহামারীতে মৃত্যুর সংখ্যা যা দেখানো হয়েছে প্রকৃত সংখ্যা তার থেকে ২ থেকে ৩ গুণ বেশি হতে পারে।
ভারতের করোনা সংক্রমণ নিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসের এই প্রতিবেদন তৈরিতে বিশ্বের বহু বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হয়েছে। তাঁদের অভিমতের স্বপক্ষে যেসব যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে সেগুলো মোটামুটি এই ধরনের:
১) এই বিষয়ে ভারতের তথ্য রেকর্ড সংগ্ৰহ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা দুর্বল।
২) করোনা টেস্ট করার গতি এই দেশে অনেক কম। টেস্ট না হলে সংক্রমণের বিস্তার জানা সম্ভব নয়।
৩) সাধারণ মানুষের বিশেষ করে গ্ৰামাঞ্চলের মানুষের মধ্যে এই টেস্টের প্রতি আগ্ৰহও অনেক কম।
৪) করোনা উপসর্গ নিয়ে যেসব মানুষ বাড়িতে বা হাতুড়ে ডাক্তারের কাছে মারা গেছেন তাঁদের সংখ্যা অনেক বেশি। কিন্তু তাঁদের মৃত্যু সম্পর্কে কোনও রেকর্ড রাখার দরকার মনে করছে না সরকার।
৫) বহু পরিবার এমন রয়েছে যারা তাদের সদস্যের মৃত্যু করোনায় হয়েছে বলে জানাতেও অনাগ্ৰহী।
৬) বিশেষ করে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় কয়েকটি রাজ্যে হাসপাতালে ঠাঁই নেই, অক্সিজেন নেই, বেডের ব্যবস্থা নেই, এই ধরনের পরিস্থিতিতে বিনা চিকিৎসায় শ্বাসকষ্টের রোগী মারা গেছেন যাঁরা তাঁদের পরিবার সৎকার করা নিয়ে উদ্বিগ্ন বেশি। সরকারি অফিসে করোনা রেকর্ড করার মতো মানসিক অবস্থা ছিল না তাঁদের।
৭) করোনার মৃত্যু রেকর্ড করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের কাছে আবেদনও বেশি করা হয়নি।
৮) করোনা মহামারী পরিস্থিতিতে প্রতি পাঁচ জন মৃত ব্যক্তির মধ্যে চার জনের মৃত্যু নিয়ে কোনও পোস্টমর্টেম হয়নি।
ভারতের করোনা সংক্রমণ নিয়ে সমীক্ষকরা বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন সেরোসার্ভের তথ্যের উপর। সারা দেশব্যাপী ৩টি সেরোসার্ভে হয়েছে । সর্বশেষ সার্ভে হয় এবছর জানুয়ারি মাসে। যাঁদের করোনা স্পর্শ করে গেছে তাঁদের শরীরে করোনার বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে যায় তাঁদের অজান্তেই। সেরোসার্ভে সেই অ্যান্টিবডি ধরা পড়ে যায় টেস্টের পর। তখনই জানা যায় সার্ভের আওতায় ৩০ হাজার মানুষের মধ্যে কতজনকে ছুঁয়ে গেছে করোনা। সেই টেস্ট থেকে করোনা সংক্রমণের প্রকৃত চিত্র পাওয়া যায়। সেরোসার্ভে অনুসারে ভারতের সংক্রমণ বর্তমান সরকারের হিসেবের থেকে অন্তত পাঁচ গুণ বেশি। আর সংক্রমিত প্রতি হাজারে মৃত্যুর সংখ্যা গড়ে হিসেব করলে ভারতে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা ছাড়িয়ে যাবে ছয় লক্ষ।
উল্লেখ্য, ভারতে আইন রয়েছে করোনা মহামারী পরিস্থিতিতে কেউ ভুল তথ্য পেশ করে কিংবা মিথ্যা তথ্যের উপর ভিত্তি করে উত্তেজনা ছড়ানোর কাজে লিপ্ত হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
তাই নিউইয়র্ক টাইমসের এই চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন নিয়ে ভারত সরকারের তরফ থেকে অবশ্যই প্রতিক্রিয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনেরা। কেননা বিশ্বে করোনা মহামারীতে মৃত্যুর সংখ্যা ভারতেই সর্বাধিক এই তথ্য ছড়িয়ে পড়বে আন্তর্জাতিক দুনিয়ায়। অথচ ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই বহু দেশে প্রতিষেধক ওষুধ ও করোনার ভ্যাকসিন পাঠানো হয়েছে। যদিও কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয় করোনা মোকাবিলায় যাবতীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং সব কিছুই চলছে স্বাস্থ্যবিভাগের প্রোটোকল মেনেই।




