খবর লাইভ : নারদ মামলায় চার হেভিওয়েটকে গ্রেফতার প্রক্রিয়া থেকে এখনও পর্যন্ত থেমে নেই রাজ্যপাল জগদীপ ধনকরকে নিয়ে বিতর্ক। ক্রমশ রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সুর চড়াচ্ছেন তিনি। বরাবর তাঁকে কটাক্ষ করে এসেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। বিশেষ করে তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে সম্প্রতি ‘পাগলা কুকুর’ বলেও সম্বোধন করেছেন। এবার কল্যাণের মন্তব্য, ‘থানায় থানায় রাজ্যপালের বিরুদ্ধে ডায়েরি করে রাখুন। এখন মামলা শুরু হবে না ঠিকই, কিন্তু তিনি যেদিন রাজ্যপালের মেয়াদ সম্পন্ন করবেন, তখন যেন জগদীপ ধনকরকে এই প্রেসিডেন্সি জেলেই রাখা যায়। আপনারা এই ব্যবস্থা করুন।’ ‘কল্যাণের মন্তব্যে তিনি হতবাক।‘ পাল্টা জবাব দিয়েছেন রাজ্যপালও।
ধনকরের দুই পূর্ণমন্ত্রী সহ চার হেভিওয়েটের বিরুদ্ধে সিবিআইকে চার্জশিটের অনুমতি দেওয়া নিয়ে এমনিতেই বিতর্ক চলছে। রাজ্যপালের মেয়াদ ফুরোলেই ধনকরকে জেলে পাঠানোর হুঁশিয়ারি তৃণমূল সাংসদ দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। রিষড়ায় ওয়েলিংটন চটকল গেটে করোনার ত্রাণ বিলি করতে গিয়েছিলেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ। সেখানে তিনি বলেন, ‘উনি ভারতীয় সংবিধানকে ধ্বংস করেছেন। আমি জানি, রাজ্যপালের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা যায় না। কিন্তু এই রাজ্যপাল যেভাবে প্ররোচনা দিয়েছেন, যেভাবে বিভাজন তৈরি করেছেন, তাতে আমি সবাইকে বলব ডায়েরি করে রাখুন। যেদিন উনি রাজ্যপাল থাকবেন না, সেদিন মামলা শুরু করে ওঁকে প্রেসিডেন্সি জেলে ঢোকানো হবে।’
প্রতিক্রিয়া দিতে সময় নষ্ট করেননি রাজ্যপালও। টুইটারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ট্যাগ করে ধনকর লেখেন, ‘উনি (কল্যাণ) তৃণমূলের একজন প্রবীণ কার্যকর্তা। লোকসভার একজন প্রবীণ সাংসদ। উনি একজন প্রবীণ আইনজীবীও। ওঁর কথা শুনে আমি স্তম্ভিত। এই বিষয়টি আমি রাজ্যের সংস্কৃতিবান মানুষের হাতে ছেড়ে দিলাম বিচার করার জন্য।’
বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘কল্যাণ যা বলেছেন, তা সংবিধান না মানার সামিল। সাংবিধানিক কাঠামোকে তৃণমূল ভাঙতে চাইছে।’



