National

ধর্ষণ মামলায় বেকসুর খালাস পেলেন তেহেলকা-র তরুণ তেজপাল

0
(0)

খবর লাইভ :  ধর্ষণ মামলায় বেকসুর খালাস পেলেন ‘তেহেলকা’র প্রাক্তন সম্পাদক তথা সাংবাদিক তরুণ তেজপাল। আট বছরের পুরনো এই মামলায় তেজপালের জামিন মঞ্জুর করল উত্তর গোয়ার মাপুসার ডিস্ট্রিক্ট অ্যান্ড সেশন কোর্ট। তেজপালের এক জুনিয়র মহিলা সহকর্মী ২০১৩ সালে তাঁর বিরুদ্ধে গোয়ায় একটি হোটেলে তেহেলকার বার্ষিক সভা চলাকালীন লিফটের ভেতর যৌন হেনস্থার অভিযোগ এনেছিলেন৷ সেই মামলাতেই খালাস পেলেন৷
অভিযোগ থেকে মুক্তি পেয়ে তেজপাল এক বিবৃতিতে তাঁর আইনজীবীদের ধন্যবাদ জানান৷ এঁদের মধ্যে রয়েছেন আইনজীবী প্রমোদ দুবে, আমির খান, অঙ্কুর চাওলা, অমিত দেশাই, কপিল সিব্বল, সলমন খুরশিদ, আমন লেখি, সন্দীপ কাপুর, রাইয়ান করণজাওয়ালা, রবি শর্মা, অভিমন্যু ভাণ্ডারী ও শ্রীকান্ত শিবাড়ে৷ আদালতের রায়দানের পর তেজপালের বিবৃতি পাঠ করেন তাঁর মেয়ে। এতে তিনি লেখেন, নিরপেক্ষ রায়দানের জন্য আদালতকে ধন্যবাদ জানাই। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে এবং মামলার প্রতিটি বিষয় খতিয়ে দেখে যেভাবে আদালত নিরপেক্ষ রায় দিয়েছে, তাতে আমি কৃতজ্ঞ। আমার আইনজীবীদেরও ধন্যবাদ জানাই।
আট বছর আগে তেজপালের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেন তাঁরই এক সহকর্মী। যৌন হেনস্থারও অভিযোগ করেন তিনি। এরপরই প্রবল সমালোচনা ও চাপের মুখে তেহেলকার সম্পাদকের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন তেজপাল। অভিযোগের ভিত্তিতে ২০১৩ সালে তাঁকে গ্রেফতারও করা হয়। তবে ২০১৪ সালে জামিন পান তিনি। ২০১৭ সালে নিম্ন আদালতে দোষী সাব্যস্ত হন তরুণ তেজপাল। ধর্ষণ ও যৌন হেনস্থার অভিযোগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন তেহেলকার প্রাক্তন সম্পাদক। গোয়ার আদালতে শুনানি চালানোর নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত। দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে শুনানি। যার রায় দান হল শুক্রবার।
দেশের সুপরিচিত সাংবাদিকদের অন্যতম তেজপাল। কয়েক দশক ধরে শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি পত্রিকায় কাজ করার পর তাঁর হাত ধরেই ২০০০ সালে ‘তেহেলকা’ ম্যাগাজিনের যাত্রা শুরু হয়। দ্রুতই তেহেলকা বেশ কয়েকটি বড় বড় অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। যা নিয়ে দেশজুড়ে হইচই পড়ে যায়। বিশেষ করে তেহেলকার সাংবাদিকদের ছদ্মবেশে ‘স্টিং অপরাশেন’ চালিয়ে নানা অপরাধ ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরার জন্য দ্রুতই ম্যাগাজিনটি জনপ্রিয়তা পায়। ২০০১ সালে বিজেপির আমলে তেহেলকার ‘অপারেশন ওয়েস্ট এন্ড’ পুরো ভারতকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। তেহেলকার সাংবাদিকরা সেবার অস্ত্র বিক্রেতা সেজে সেনা অফিসার, আমলাদের ঘুষ এবং নারীসঙ্গের প্রস্তাব দেয়। সেসব ঘটনা তাঁরা গোপন ক্যামেরায় ভিডিয়ো করেছিলেন। সেই ভিডিও প্রকাশের পর বিজেপি সরকারের ভিত নড়ে গিয়েছিল। জনপ্রিয়তার তুঙ্গে উঠে গিয়েছিলেন তেজপাল।
২০১৩ সালে তরুণের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠলে তিনি জানিয়েছিলেন, রাজনৈতিকভাবে প্রতিশোধ নিতে গোয়ার স্থানীয় বিজেপি সরকার তাঁর বিরুদ্ধে এই চক্রান্ত করেছে। এবিভিপি এবং বিজেপির মহিলা দল এবং সদস্যরা তেজপালের বিরুদ্ধে ওই সময় সড়কে নেমে আন্দোলন করেছিলেন। এখনও কেন্দ্রে বিজেপি সরকার ক্ষমতায়৷ তবে বেকসুর খালাস পেতে সমস্যা হল না তাঁর৷

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *