State

আপাতত গৃহবন্দি, সোমবার পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চে মামলার শুনানি

0
(0)

খবর লাইভ : নারদ মামলা নিয়ে জট কাটল না শুক্রবারেও। নারদ কাণ্ডে ধৃত চার দাপুটে নেতার জেল মুক্তি ঘটল বটে, কিন্তু জামিন মিলল না। কেননা চার নেতার জামিন নিয়ে সহমত হতে পারেননি কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দাল ও বিচারপতি অরিজি‍ৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি জানিয়ে দেন, তিনি এখনই জামিন দেওয়ার পক্ষে নন। কিন্তু বিচারপতি অরিজিত্‍ বন্দ্যোপাধ্যায় চার নেতা-মন্ত্রীর অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করেন। দুই বিচারপতির মতভেদের কারণে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার ছাড়া হয় বৃহত্তর বেঞ্চের উপরে। এদিন সন্ধ্যায় পাঁচ বিচারপতির বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। বেঞ্চে থাকছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দাল, বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিচারপতি ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায়, বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডন এবং বিচারপতি সোমেন সেন। আগামী সোমবার সকাল ১১টা থেকে ওই মামলার শুনানি।

তবে ধৃত চার নেতার অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত না নিতে পারলেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়, ‘চার নেতাই আপাতত গৃহবন্দি থাকবেন। ফিরহাদ হাকিম ও সুব্রত মুখোপাধ্যায়রা বাড়িতে বসেই প্রশাসনিক কাজকর্ম চালাবেন। অনলাইনেই প্রশাসনিক বৈঠক করবেন। তবে সশরীরে কোনও বৈঠকে হাজির হতে পারবেন না। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গেও কথা বলতে পারবেন না।’

কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের এমন নির্দেশ বেনজির ঘটনা বলেই মনে করছেন আইনজীবীরা। স্বাধীনতার পরে বাংলায় এই প্রথম কোনও রাজনেতাকে গৃহবন্দি করে রাখার নির্দেশ দিল বিচার বিভাগ। চার নেতাকে গৃহবন্দি করে রাখার নির্দেশ দিতে গিয়ে বিচারপতিরা অবশ্য ভীমা-কোরেগাঁও মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত গৌতম নালাখাবার প্রসঙ্গও উত্থাপন করেছেন। প্রবীণ আইনজীবীরা জানিয়েছেন, স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়ে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুকে গৃহবন্দি করে রাখার নির্দেশ দিয়েছিল ব্রিটিশ শাসকরা। কিন্তু তা ছিল প্রশাসনিক নির্দেশ।

এদিন অবশ্য চার নেতার জামিন নিয়ে সহমত হতে না পারলেও নারদ মামলা অন্য রাজ্যে স্থানান্তরের যে আর্জি জানিয়েছিল সিবিআই, তা খারিজ করে দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ। অর্থা‍ৎ রাজ্য থেকে মামলা সরানো নিয়ে সিবিআই ধাক্কা খেয়েছে। তবে যেহেতু গোটা মামলা ফের পাঁচ বিচারপতির বৃহত্তর বেঞ্চ শুনবে, তাই সেখানেও ফের একবার মামলা ভিন রাজ্যে সরিয়ে নেওয়ার পক্ষে সওয়াল করার সুযোগ থাকছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার।

গত কয়েকদিন ধরেই নারদ মামলা নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি টানাপোড়েন চলছিল। বুধবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে ফিরহাদ, সুব্রতদের জামিন নিয়ে স্থগিতাদেশ পুনর্বিবেচনার আর্জির শুনানি শুরু হয়েছিল। ফের এদিন সকাল ১১টা থেকে শুরু হয় শুনানি। জামিনের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে অভিযুক্তদের আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি বার বার করোনা মোকাবিলায় ফিরহাদের মতো করিতকর্মা মন্ত্রী ও প্রশাসকের কতটা প্রয়োজন তা তুলে ধরছিলেন। কিন্তু জামিনের বিরোধিতা করেন সিবিআইয়ের আইনজীবী তথা সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। দু’পক্ষের সওয়াল শেষে নির্দেশ দিতে গিয়ে মতভেদে জড়িয়ে পড়েন দুই বিচারপতি। শেষ পর্যন্ত ধৃতদের অন্যতম আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আর্জি মেনে বৃহত্তর বেঞ্চে মামলা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে অন্তর্বর্তী নির্দেশে এদিন ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, চার জনকে আপাতত গৃহবন্দি থাকতে হবে। তবে চার জনেই বাড়ি থেকে সরকারি কাজকর্ম চালিয়ে যেতে পারবেন।’ পাশাপাশি জেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, চার জনের ভিডিয়ো কনফারেন্স যেমন লগ করতে হবে, তেমনই নেতা-মন্ত্রীদের বাড়িতে, যেখানে তাঁরা বসে কাজ করবেন, সেখানে সিসিটিভি বসাতে হবে। জেল কর্তৃপক্ষকেই তা সংরক্ষণ করতে হবে।’

তবে ফিরহাদ বাড়ি ফিরলেও নারদকাণ্ডে ধৃত বাকি তিন জন অর্থা‍ৎ সুব্রত, মদন মিত্র ও শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি ফেরা অনিশ্চিত। তিন জনেই বর্তমানে এসএসকেএম হাসপাতালে চিকি‍ৎসাধীন। তিন নেতার চিকি‍ৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ড এখনও সুব্রত-মদনদের ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *