খবর লাইভ : নারদ কাণ্ডে সিবিআই গ্রেফতার করেছে রাজ্যের দুই মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এবং সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে। একইসঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে তৃণমূল বিধায়ক ও প্রাক্তন মন্ত্রী মদন মিত্রকেও। গ্রেফতার হয়েছেন রাজ্যের অপর আর এক প্রাক্তন মন্ত্রী তথা কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ও। এদিনই ব্যাঙ্কশাল কোর্টে পেশ করে তাঁদের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দিতে চায় সিবিআই। এরপরেই মাঠে নেমে পড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজে সোজা চলে গেলেন নিজাম প্যালেসে। সিবিআই আধিকারিকদের ঘরের সামনে দাঁড়িয়েই নিজের গ্রেফতারির দাবি জানান মমতা। সেখানে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান যেতেই জোরদার করা হয় নিজাম প্যালেস চত্বরের নিরাপত্তা।
সাত সকালেই তুলকালাম। নারদ কাণ্ডে প্রথমেই গ্রেফতার করা হয় সুব্রত মুখোপাধ্যায়, মদন মিত্র ও শোভন চট্টোপাধ্যায়কে। এদিন সকালেই কলকাতায় সিবিআইয়ের কার্যালয়ে ডেকে পাঠানো হলেও ফিরহাদ হাকিমকে কার্যত এদিন তাঁর বাড়ি থেকে বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে গিয়ে তুলে আনে সিবিআই। প্রথমে কাউকেই অবশ্য সরকারি স্তরে গ্রেফতার দেখানো হয়নি। বলা হয়েছে তাঁদের আটক করা হচ্ছে নারদ কাণ্ডের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। পরে অবশ্য সেই জায়গা থেকে সরে এসে সিবিআই জানায় চারজনকেই গ্রেফতার করা হচ্ছে। এই খবর পেতেই নিজাম প্যালেসে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন নিজাম প্যালেসে পৌঁছেই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন তাঁকে গ্রেফতার না করা পর্যন্ত তিনি সেখান থেকে যাবেন না। একই সঙ্গে তিনি এই দাবিও তোলেন, যদি আইনটাই শেষ কথা হয় তাহলে মুকুল রায় আর শুভেন্দু অধিকারীকে কেন ছাড় দেওয়া হচ্ছে?
তবে রাজ্যের দুই বর্তমান মন্ত্রী ও দুই প্রাক্তন মন্ত্রীকে গ্রেফতারির জেরে বেশ কিছু প্রশ্নও উঠেছে। নারদ কাণ্ডে নাম রয়েছে মুকুল ও শুভেন্দুর। দুজনের কেউই এখন আর সাংসদ নন। তাঁরা বিধায়ক। অথচ তাঁদের কাউকেই গ্রেফতার করা হয়নি। ‘একই যাত্রায় ভিন্ন ফল’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বহু তৃণমূল সমর্থকও।
রাজ্য বিধানসভার স্পিকারের কোনও অনুমতি না নিয়েই সিবিআই ফিরহাদ, সুব্রত ও মদনকে গ্রেফতার করেছে। নিয়মানুসারে বিধানসভা অধিবেশন চলাকালীন সময়ে বিধায়কদের গ্রেফতার করতে হলে বিধানসভার অধ্যক্ষ বা স্পিকারের অনুমতি লাগে। যা সিবিআই নেয়নি। তাই এই ঘটনায় সরব হয়েছেন বিধানসভার স্পিকার তথা অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও সিবিআইয়ের দাবি, তিন বিধায়ককে গ্রেফতারের পর অধ্যক্ষকে জানিয়ে দেওয়া হবে। যেহেতু রাজ্যপাল এই চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন তাই স্পিকারের অনুমতির কোনও প্রয়োজন নেই। সেই ভিত্তিতেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তবে মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল এই দাবি মানতে নারাজ।
এদিন তৃণমূলের তরফে অভিযোগ করে বলা হয়েছে, রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি হেরে গিয়ে এখন প্রতিহিংসার রাজনীতি শুরু করেছে। অভিযোগ, সবটাই হচ্ছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশে।




