State

সাংসদ পদেই থাকছেন বিধানসভায় জয়ী দুই বিজেপি প্রার্থী

0
(0)

খবর লাইভ : টানা বেশ কয়েকদিন ধরে জল্পনার অবশেষে যবনিকাপাত। বিধায়ক হিসেবে শপথ নিচ্ছেন না কোচবিহারের দিনহাটা ও নদিয়ার শান্তিপুর থেকে জয়ী বিজেপির দুই প্রার্থী নিশীথ প্রামাণিক ও জগন্নাথ সরকার ।

বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিধানসভায় জয়ী দুই প্রার্থী সাংসদ হিসেবেই থাকবেন। আর এই সিদ্ধান্তের ফলে দিনহাটা ও শান্তিপুরে উপনির্বাচন অনিবার্য হয়ে পড়ল। তবে নিশীথ ও জগন্নাথের জেতা দুই আসন উপনির্বাচনে ধরে রাখা নিয়ে যথেষ্টই সন্দিহান বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব। রাজ্য বিজেপির এক শীর্ষ নেতার কথায়, ‘উপনির্বাচনে বরাবরই ভোটাররা শাসকদলের দিকে ঝোঁকেন। রাজ্যে বর্তমানে তৃণমূলের যে হাওয়া চলছে, তাতে ওই দুই আসনে জয় পাওয়ার আশা ছেড়ে দিচ্ছি আমরা।’

সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা ভোটে নয়া রাজনৈতিক ফর্মূলা নিয়ে পরীক্ষা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বাংলার ভোটযুদ্ধে বিজেপির প্রধান সেনাপতি অমিত শাহ। টালিগঞ্জ থেকে বাবুল সুপ্রিয়, তারকেশ্বর থেকে স্বপন দাশগুপ্ত, চুঁচুড়া থেকে লকেট চট্টোপাধ্যায়, শান্তিপুর থেকে জগন্নাথ সরকার ও দিনহাটা থেকে কোচবিহারের সাংসদ নিশীথ প্রামাণিককে প্রার্থী করা হয়েছিল। স্বপন দাশগুপ্ত যেহেতু রাষ্ট্রপতির মনোনীত হিসেবে রাজ্যসভায় গিয়েছিলেন, তাই ভোটে দাঁড়ানোর আগেই ইস্তফা দিয়েছিলেন তিনি। রাজ্যে দল সরকার গড়বে এবং সম্ভাব্য মন্ত্রিসভায় যাতে যোগ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের অভাব না হয়, তার জন্যই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

কিন্তু অমিতের সেই ফর্মুলা ডাহা ফেল করেছে। রাজ্যে সরকার গড়ার স্বপ্ন খানখান হয়েছে বিজেপির। এমনকি বাবুল, স্বপন, লকেটকে গোহারা হারতে হয়েছে। মাত্র ৫৯ ভোটে জিতে কোনওক্রমে মুখ রক্ষা করেছেন নিশীথ। আর শান্তিপুর থেকে ১৫ হাজার ৮৭৮ ভোটে জয়ী হয়েছিলেন রানাঘাটের সাংসদ জগন্নাথ।

ভোটের ফলাফল ঘোষণার পরে নবনির্বাচিত বিধায়করা শপথ নিলেও দেখা যায়নি দিনহাটা ও শান্তিপুরের দুই জয়ী প্রার্থীকে। যদিও বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে শপথ নেওয়া যায়। তবুও বিজেপির দুই জয়ী প্রার্থী সাংসদ পদ ছাড়বেন না বিধায়ক পদ, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। দু্জনেই অবশ্য সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব যে সিদ্ধান্ত নেবে, তাই মেনে নেওয়া হবে।

সূত্রের খবর, যেহেতু সাংসদ হিসেবে আর মাত্র তিন বছর মেয়াদ বাকি রয়েছে এবং বিধায়ক হিসেবে পাঁচ বছর থাকা যাবে, তাই নিশীথ এবং জগন্নাথরা চেয়েছিলেন বিধায়ক হিসেবে কাজ করতে। কিন্তু তাতে রাজি হয়নি বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব। দুই সাংসদ বিধায়ক থাকলে কোচবিহার ও রানাঘাট লোকসভা আসনে উপনির্বাচন অবশ্যাম্ভাবী হয়ে পড়বে। রাজ্যে এই মুহুর্তে ভোট হলে ওই দুই আসন জেতা যাবে কিনা, তা লাখ টাকার প্রশ্ন। তাই কোনও ঝুঁকি না নিয়ে বিধানসভায় জয়ী দুই প্রার্থীকেই বিধায়ক পদে শপথ না নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *