খবর লাইভ : ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট যখন রাজ্য সরকারের ভূমিকার প্রশংসা করেছে, তখন রাজ্য সরকারের সঙ্গে সঙ্ঘাতের রাস্তায় হাঁটারই সিদ্ধান্ত নিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। সোমবার রাজ্যের নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করানোর পরেই হিংসা কবলিত এলাকা পরিদর্শনে যাওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন। আর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় টুইট করে জানিয়েছেন, আগামী বৃহস্পতিবার রাজনৈতিক আক্রান্তদের দেখতে বৃহস্পতিবার কোচবিহারের শীতলকুচি যাবেন তিনি। বিএসএফের দেওয়া হেলিকপ্টারে চেপেই শীতলকুচি ও কোচবিহারের অন্যান্য জায়গায় যাবেন।
উল্লেখ্য, গত ১০ এপ্রিল রাজ্যে চতুর্থ দফার ভোটের দিনেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল কোচবিহারের শীতলকুচি। জীবনের প্রথম ভোট দিতে গিয়ে ভোটের লাইনেই দুষ্কৃতীদের বোমা-গুলিতে প্রাণ হারাতে হয়েছিল আনন্দ বর্মন নামে এক তরুণকে। পরে জোড়াপাটকির ১২৬ নম্বর বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারান চার সংখ্যালঘু ভোটার। রাজ্যে তৃতীয়বার মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসেই নিহত পাঁচজনের পরিবারকে সরকারি চাকরি দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ভোট হিংসা দেখতে রাজ্যপালের জেলা সফর এবং এদিনের টুইট যথেষ্টই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, রাজ্য সরকারের সঙ্গে রাজ্যপালের সঙ্ঘাতে জড়ানোর পিছনে যে অমিত শাহের অধীনস্থ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের পূর্ণ মদত রয়েছে, তা বিএসএফের হেলিকপ্টার দিয়ে সাহায্য করার ঘটনাতেই প্রমাণ। রাজ্য সরকারের শীর্ষ মহলের অনুরোধকে খারিজ করে দিয়ে যেভাবে ভোট হিংসা দেখতে পরিব্রাজকের মতো রাজ্য ভ্রমণে বেরিয়ে পরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ধনকর, তাতে বেজায় খাপ্পা রাজ্যের শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্ব। রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় রাজ্যপালের জেলা সফর নিয়ে শ্লেষাত্মক কণ্ঠে বলেছেন, ‘আশা করি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের আধিকারিকদের মতো বিজেপির হয়ে নির্লজ্জ চাটুকারিতা করবেন না রাজ্যপাল। যাঁরা আক্রান্ত হয়েছেন দলমত নির্বিশেষে তাঁদের সঙ্গে কথা বলবেন।’
যদিও রাজভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, জনরোষের মুখে পড়ার আশঙ্কায় তৃণমূল কিংবা বিজেপি বিরোধী দলের আক্রান্ত কর্মীদের সঙ্গে দেখা করার কোনও পরিকল্পনা নেই রাজ্যপালের। বিজেপির পক্ষ থেকে যে তালিকা দেওয়া হয়েছে, সেই তালিকা অনুযায়ী জেলায় জেলায় গিয়ে আক্রান্তদের সঙ্গে কথা বলবেন। তার পরেই রাজ্যের ভোট হিংসা নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে বিশেষ রিপোর্ট পাঠাবেন।



