খবর লাইভ : করোনা থেকে সেরে ওঠার পরও নিস্তার নেই। নতুন আতঙ্কের নাম ব্ল্যাক ফাঙ্গাস। এই ছত্রাক করোনা রোগীদের দেহে বাসা বাঁধছে। এর সংক্রমণে করোনা রোগীরা হারাচ্ছেন তাঁদের দৃষ্টিশক্তি। মৃত্যু হয়েছে বেশ কয়েকজন করোনা আক্রান্তের। মহারাষ্ট্রে ইতিমধ্যে আট জন এই ছত্রাকের শিকার হয়েছেন। দিল্লিতেও এমন আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, এইসব রোগীদের কমবেশি অনেকেই দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। গুজরাতের সুরাতে ২১ এপ্রিল থেকে ৬ মে পর্যন্ত অন্ততপক্ষে ৪০ জনকে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। আইসিইউ থেকে যাঁরা বেঁচে ফিরেছেন তাঁদেরকেই এই ছত্রাক বেশি আক্রমণ করছে। ৫ ও ৬ মে ছজন রোগী এই ছত্রাকে আক্রান্ত হয়ে দিল্লির গঙ্গারাম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। একই চিত্র পুণেতেও। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়া রোগীদের ১০ জন ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হয়ে ফের হাসপাতালমুখী হন। তাঁদের ১০ জনকে অস্ত্রোপচার করতে হয়। এদের মধ্যে মারা গেছেন পাঁচ জন।
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস কী এবং কেন হয়? এটি একটি ফাঙ্গাস বা ছত্রাক থেকে সৃষ্ট রোগ। ফল, সব্জি, উদ্ভিদ, প্রাণী এবং মানুষ সবার মধ্যেই এই রোগটি দেখা দিতে পারে। ফল, সব্জি ও উদ্ভিদের কান্ড বা পাতায় কালো কিংবা ধূসর ভুসির আস্তরনের মতো ছত্রাকগুলি লেগে থাকে। এই ছত্রাকের পোশাকি নাম মিউকোর। ছত্রাক সৃষ্ট রোগকে বলা হয় মাইকোসিস। তাই মিউকোর সৃষ্ট রোগের নাম মিউকোরমাইকোসিস। এতে আক্রান্ত স্থানে কালো দাগ তৈরি হয়। তবে একজন সুস্থ সাধারণ মানুষ ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হন না। রোগ বা কোনও বিশেষ চিকিৎসার কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে এই ধরনের ছত্রাক কামড় বসানোর সুযোগ পায়। ত্বকে কাটা, ক্ষত বা পোড়া ঘা থাকলে সেগুলো ছত্রাকের প্রবেশ পথ হিসেবে কাজ করে। এছাড়া পরিপাকতন্ত্রেও ছত্রাক প্রবেশ করতে পারে।
এই রোগের লক্ষণ কী?
১) মুখের একদিক ফুলে যাওয়া। মাথাব্যথা, নাক বন্ধ, নাকের ভেতর কালো ক্ষত ও জ্বর।
২) জ্বর কাশি বুকে ব্যথা শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি।
৩) চামড়ায় ফুসকুড়ি। আক্রান্ত স্থান কালো হয়ে যাওয়া। জায়গাটি ফুলে যাওয়া এবং ব্যথা।
৪) বমি বমি ভাব, পেট ব্যথা।
৫) ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ধরা না পড়লে মস্তিষ্ক আক্রান্ত হয়ে রোগী কোমায় চলে যেতে পারে। এক্ষেত্রে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।




