খবর লাইভ : সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা ভোটে দলের ভরাডুবি নিয়ে ফের বিস্ফোরক ত্রিপুরার প্রাক্তন রাজ্যপাল তথা বঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি তথাগত রায়। বেশ কিছুটা সুর চড়িয়ে পরোক্ষে তিনি দিলীপ ঘোষ- কৈলাস বিজয়বর্গীয়- শিবপ্রকাশ ও অরবিন্দ মেনন- এই চারজনকে ফের নিশানা করেছেন।
ভোটের আগে যোগদান মেলার নামে বিভিন্ন দল থেকে ভাড়াটে সৈনিকদের নিয়ে দলে জামাই আদর করে দলে নিয়ে আসাকে ঠুকতে গিয়ে বলেছেন, ‘যোগদান মেলার নামে চোর, দুশ্চরিত্র, লম্পট ও বদমায়েশদের দলে নিয়ে আসা হয়েছে।’ দলকে কীভাবে ডোবানো হয়েছে এবং কারা ডুবিয়েছেন, তা লিখিত আকারে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বকে জানাবেন বলেও হুমকি দিয়েছেন বর্ষীয়ান এই বিজেপি নেতা।
বিধানসভা ভোটে দল মুখ থুবড়ে পড়ার পরেই লাগাতার মুখ খুলে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ করে যাচ্ছেন তথাগত। প্রথমে সদ্য দলে এসে টিকিট পেয়ে ভোটে লড়া শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়, পায়েল সরকার, তনুশ্রী চক্রবর্তীদের ‘নটী নগরী’ হিসেবে কটাক্ষ করেছিলেন। পরে নাম না করে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে ‘অষ্টম শ্রেণি পাশ ফিটার মিস্ত্রি’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। দলের অন্যতম বর্ষীয়ান নেতার বিস্ফোরক মন্তব্যে যথেষ্টই বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বকে। কেন একের পর অস্বস্তিকর মন্তব্য করে চলেছেন তা জানতে তথাগতকে দিল্লিতেও তলব করেছে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব।
কিন্তু সেই তলব পেয়েও দিল্লি যাননি ত্রিপুরার রাজ্যপাল। সংবাদমাধ্যমকে এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি করোনা আক্রান্ত। রিপোর্ট নেগেটিভ না আসা পর্যন্ত দিল্লি যেতে পারব না।’ তবে তিনি যে দলের ভরাডুবি নিয়ে চুপ থাকবেন না তারও ইঙ্গিত দিয়েছেন। ত্রিপুরার প্রাক্তন রাজ্যপালের কথায়, ‘কেন ভোটে দলের ভরাডুবি হল, তা নিয়ে যা বলার ইতিমধ্যেই বলে দিয়েছি। এ বার লিখিতভাবে জানাব যে কীভাবে বেশ কিছু নেতা দলের সর্বনাশ করেছেন।’
ভোটের আগে ঘটা করে দলের যোগদান মেলাকে বিঁধে তিনি বলেন, ‘যোগদান মেলা কাদের নিয়ে হয়েছে? চোর, দুশ্চরিত্র, বদমায়েশ, লম্পটদের নিয়ে যোগদান মেলা হয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছে যাঁদের বিশ্বাসযোগ্যতা নেই, কোনও জনভিত্তি নেই, তাঁদের জামাই আদর করে দলে নেওয়া হয়েছে। কেন নেওয়া হয়েছে, কিসের বিনিময়ে নেওয়া হয়েছে, তা খোলাখুলি জানাব দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে।’




