খবর লাইভ : সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা ভোটে কার্যত পেশি ও অর্থশক্তিরই আক্ষরিক অর্থে জয় হয়েছে। যে ২৯২ জন বিধায়ক জিতেছেন তার মধ্যে ১৫৮ জনই কোটিপতি। বিধায়কদের গড় সম্পত্তির পরিমাণ ২ কোটি ৫৩ লক্ষ টাকা। সম্পত্তির নিরিখে শীর্ষে রয়েছেন কসবা থেকে নির্বাচিত তৃণমূল বিধায়ক জাভেদ আহমেদ খান। পাশাপাশি ১৪২ জন বিধায়কের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চলছে। তাঁদের মধ্যে ১০ জনের বিরুদ্ধে খুন, ৩০ জনের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, একজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের কাছে রাজ্যের নবনির্বাচিত বিধায়কদের দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে নির্বাচন নজরদারি সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মসের (এডিআর) পক্ষ থেকে বুধবার এক রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, ‘২০১৬ সালে রাজ্যের ২৯৪ বিধায়কের মধ্যে ১০০ বিধায়ক ছিলেন কোটিপতি। পাঁচ বছর বাদে এবার ২৯২ বিধায়কের মধ্যে ১৫৮ বিধায়ক অর্থাৎ ৫৪ শতাংশ বিধায়ক কোটিপতি। শুধু তাই নয়, ২০১৬ সালে নির্বাচিত বিধায়কদের গড় সম্পত্তির পরিমাণ যেখানে ছিল এক কোটি ৪৬ লক্ষ টাকা, এবার সেখানে বর্তমান বিধানসভায় নির্বাচিত বিধায়কদের গড় সম্পত্তির পরিমাণ ২ কোটি ৫৩ লক্ষ টাকা। বর্তমান বিধানসভায় যে ১৫৮ জন কোটিপতি বিধায়ক জিতে এসেছেন তাঁদের মধ্যে ১৩২ জন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের। আর বিজেপির কোটিপতি বিধায়কদের সংখ্যা ২৫। কালিম্পং থেকে নির্বাচিত নির্দল বিধায়ক রুদেন সাডা লেপচার নামও রয়েছে কোটিপতি বিধায়কের তালিকায়। এক নির্দল বিধায়কের সম্পত্তিও কোটি টাকার উপরে। ৩৭ জন বিধায়কের সম্পত্তির পরিমাণ ৫ কোটি টাকার ঊর্ধ্বে। ২ কোটি থেকে ৫ কোটি টাকা সম্পত্তি রয়েছে ৬৫ জন বিধায়কের। আর ৫৬ জন বিধায়কের সম্পত্তির পরিমাণ এক থেকে ২ কোটি টাকা।’
সদ্য সমাপ্ত ভোটে যে অর্থবান প্রার্থীরাই জিতেছেন তাই নয়, পেশিশক্তি যাঁদের রয়েছে তাঁদের জয়ও চোখে পড়ার মতো। এডিআরের রিপোর্ট অনুযায়ী, বিদায়ী বিধানসভার ২৯৪ জন বিধায়কের মধ্যে ১০৭ জন অর্থাৎ ৩৭ শতাংশের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা ছিল। কিন্তু এবার নির্বাচিত ২৯২ বিধায়কের মধ্যে ১৪২ বিধায়কের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৯১ জন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের। পিছিয়ে নেই বিজেপিও। সুশাসন আর স্বচ্ছতার রাজনীতির স্লোগানধারী দলের ৫০ জন অর্থাৎ ৬৫ শতাংশ বিধায়কের বিরুদ্ধেই ফৌজদারি মামলা রয়েছে। কালিম্পং থেকে নির্বাচিত নির্দল বিধায়কের কাঁধেও ফৌজদারি মামলা ঝুলছে।’
পাশাপাশি গত বিধানসভায় বিভিন্ন দলের হয়ে ৪০ জন মহিলা বিধায়ক প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। এবারেও মহিলা বিধায়কের সংখ্যা ৪০। নব নির্বাচিত বিধায়কদের মধ্যে ১১৪ জন অর্থাৎ ৩৯ শতাংশের বয়স ২৫ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। আর ১৭৮ জন অর্থাৎ ৬১ শতাংশ বিধায়কের বয়স ৫০ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে। শিক্ষাগত যোগ্যতা বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে, অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পাশ করেছেন এমন বিধায়কের সংখ্যা ১০৭ জন। স্নাতক বা তার চেয়ে উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতা রয়েছে ১৮০ জন বিধায়কের। তিন জন ডিপ্লোমাধারী। একজন কোনওক্রমে নাম সই করতে পারেন আর একজন সম্পূর্ণ নিরক্ষর।



