খবর লাইভ : বাংলা নির্বাচনে লজ্জাজনক হার কংগ্রেসের। দলের এই শোচনীয় পরাজয় উদ্বেগের মুখে ফেলেছে কংগ্রেস হাইকমান্ডকে। এই পরিস্থিতিতে কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়াবে? বিষয়টি ভাবাচ্ছে হাইকমান্ডকে। কিন্তু কেন?
সাত দশকের দুর্ভেদ্য গড় মুর্শিদাবাদ। সেখানে ডাহা ফেল কংগ্রেস। অন্যদিকে সেখানেই লেটার মার্কস নিয়ে পাস করেছে তৃণমূল। প্রায় একই অবস্থা মালদহের ক্ষেত্রেও। কংগ্রেসের যখন এমন ছন্নছাড়া অবস্থা, তখন বিজেপি বিরোধী শিবিরের নেতাদের কুর্নিশ পাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২৪ এ লোকসভা ভোট। বিজেপিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে অ-বিজেপি জোট করা আশু প্রয়োজন। এমনই ভাবছে কংগ্রেস হাইকমান্ড। এক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়ানোর অর্থ, তৃণমূল সুপ্রিমো কাছে রাজনৈতিক বশ্যতা শিকার করা। তার থেকেও ভাবাচ্ছে আরও একটা বিষয়। এর ফলে রাহুল গান্ধির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। এটাই ভাবাচ্ছে চেয়ে কংগ্রেস শিবিরকে। এমনই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।
গত ছয় দশকের এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় থাকছে না কোনও কংগ্রেস প্রতিনিধি। এক্ষেত্রে কংগ্রেস শিবিরের চিন্তা, বিজেপি বিরোধিতায় সর্বভারতীয় স্তরের রাশ মমতার হাতে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি তেমনটাই হয়, তাহলে মমতার ক্যারিশমার কাছে হার মেনে রাহুলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কার্যত প্রশ্নচিহ্নের মুখে দাঁড়াবে। এর পাশাপাশি আরও একটি দিকের কথাও সম্ভবত ভাবাচ্ছে কংগ্রেস শিবিরকে। বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের পরে নতুন করে বিজেপি বিরোধিতায় নেমে মমতাকে বাদ দিয়ে কোনও রাজনৈতিক মঞ্চ গড়ে তোলার চেষ্টা এখন অর্থহীন বলে মনে করছে রাজনৈতিক শিবির।
এর পাশাপাশি মমতা কে প্রাধান্য দিতে গেলে কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী, আব্দুল মান্নান, প্রদীপ ভট্টাচার্যের মতো নেতাদের পেছনের সারিতে ঠেলে দিতে হবে। এই পরিস্থিতিতে এতগুলো গুরুত্বপূর্ণ দিকের কথা ভাবতে হচ্ছে দশ জনপথকে। কথায় বলে, “ঠ্যালার নাম বাবাজি!” শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায় সেদিকে নজর থাকবে রাজনীতির কারবারীদের।




