খবর লাইভ : নির্বাচনে জিততে ধর্মীয় মেরুকরণকে হাতিয়ার করা বিজেপির রণকৌশলের অঙ্গ। হিন্দু ভোটকে ঐক্যবদ্ধ করতে এবারও তার কোনও কসুর করেনি গেরুয়া শিবির। বাস্তবে দেখা গেল, বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে সেই ফর্মুলা অনেকটাই ব্যর্থ। রাজ্যের হিন্দু ভোট ঢালাও পাওয়া তো দূর অস্ত, উল্টে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় তাদের ভোট উজাড় করে দিয়েছে ঘাসফুলকে।
ভাঙড় বাদে আইএসএফ-এর কোনও প্রাপ্তি নেই। কেন্দ্রভিত্তিক নির্বাচনী ফলে স্পষ্ট বাংলার সংখ্যালঘু সম্প্রদায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই ফের ক্ষমতায় দেখতে চেয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ব্যাখ্যা, দুই ২৪ পরগনা তো বটেই, এই ভোট জিততে বেশি সাহায্য করেছে মালদা, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুরের মত জেলা। এই জেলাগুলিতে গত দুটি বিধানসভা নির্বাচনে যত আসন জিতেছিল তৃণমূল, তার থেকেও ভালো ফল করেছে রাজ্যের শাসক দল।
কংগ্রেসের গড় হিসেবে পরিচিত মালদা, মুর্শিদাবাদে কোনও দিনই নজরকাড়া ফল করে উঠতে পারেনি ঘাসফুল। সেখানে আধিপত্য কংগ্রেস ও বামেদের ছিল। কিন্তু জোটের পর সেই আধিপত্য ধরে রাখতে ব্যর্থ তারা। মুর্শিদাবাদে সংখ্যালঘু ভোট রয়েছে ৭২ শতাংশ। ওই জেলায় মোট ২২টি আসন। ২০১১ ও ২০১৬- তে বেশি সংখ্যক আসন না পেলেও এবার সেখানে পেয়েছে ১৮টি আসন। বহরমপুর ও মুর্শিদাবাদ ছাড়া বাকি ১৬ টি আসনই মুসলিম প্রভাবিত। মালদাতে রয়েছে ১২ টি আসন। সেখানে ৬০ শতাংশের বেশি সংখ্যালঘু ভোট। গত দুটি বিধানসভা ভোটের তুলনায় এবার এখানেও ভালো ফল করেছে তৃণমূল। এবার সেখান ৮টি আসন জিতেছে তৃণমূল। এই ৮টি আসন হল রতুয়া, চাঁচল, মালতিপুর, হরিশচন্দ্রপুর, মানিকচক, মোথাবাড়ি, সুজাপুর ও বৈষ্ণবনগর। এরমধ্যে মানিকচক ও বৈষ্ণবনগর বাদে বাকি ৬টি মুসলিম অধ্যুষিত।
অন্যদিকে উত্তর দিনাজপুর জেলাতে ৫২ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোট। সেখানকার মুসলিম ভোটাররাও রায় দিয়েছে ঘাসফুলের পক্ষে। চোপড়া, ইসলামপুর, গোয়ালপোখর, চাকুলিয়া, করণদিঘি, হেমতাবাদ ও ইটাহারে জয়ী হয়েছে তৃণমূল প্রার্থীরা। এরমধ্যে করণদিঘি ও হেমতাবাদ ছাড়া সবকটি মুসলিম প্রভাবিত।
উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বিধানসভা কেন্দ্রগুলি মূলত সংখ্যালঘু অধ্যুষিত। বিজেপিকে ঠেকাতে তাই একজোট হয়ে ভোট দিয়েছে তারাও তৃণমূলকে। বিশেষ করে বসিরহাট মহকুমায়। বসিরহাট উত্তর ও বাদুড়িয়ার মত কেন্দ্রে যেখানে গত বিধানসভা ভোটে সিপিএম ও কংগ্রেস জিতেছিল, এবার সেই কেন্দ্রে জয়ী হয়েছে তৃণমূল প্রার্থী। অর্থাৎ মুসলিম ভোট পেয়েছে তৃণমূল প্রার্থী। এর মানে সীমান্তবর্তী ওইসব এলাকায় সংখ্যালঘু ভোট হাতছাড়া করেছে সংযুক্ত মোর্চা। এর পাশাপাশি হিন্দু ভোট একত্রিত করে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার যে স্বপ্ন দেখেছিল বিজেপি তাও বাস্তবায়িত হয়নি।




