খবর লাইভ : তৃতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পরেই কথামতো রাজ্যের বেলাগাম করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আজ বৃহস্পতিবার থেকে রাজ্যে লোকাল ট্রেন পরিষেবা বন্ধ থাকবে। সরকারি বাস ও মেট্রো চলবে ৫০ শতাংশ। সরকারি ও বেসরকারি অফিসেও ৫০ শতাংশ কর্মী নিয়ে কাজ হবে। তবে বাজার খোলার সময়সীমায় কিছুটা রদবদল হচ্ছে। সকাল ৭টা থেকে দশটা এবং বিকেল পাঁচটা থেকে সন্ধে সাতটা পর্যন্ত বাজার খোলা থাকবে। ব্যাঙ্কিং পরিষেবা মিলবে সকাল দশটা থেকে দুপুর দুটো পর্যন্ত।’ মুখ্যমন্ত্রীর এমন কড়া পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন রাজ্যের চিকিৎসকরা।
রাজভবনে তৃতীয়বারের মতো মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েই এদিন সকালে নবান্নে গিয়ে মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, স্বাস্থ্য সচিব সহ পদস্থ প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই বৈঠকে রাজ্যের করোনা পরিস্থিতির পর্যালোচনা করা হয়। রাজ্যে করোনা চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের শয্যা বাড়ানোর পাশাপাশি আরও একগুচ্ছ নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।
বৈঠক শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান বলেন, ‘সাধারণ মানুষের যাতে কোনও রকম অসুবিধা না হয়, সেই কথা মাথায় রেখে একাধিক পদক্ষেপ নিচ্ছি। সবাইকে আবার বলব, মাস্কটা আবশ্যিকভাবে ব্যবহার করুন। মাস্ক যারা ব্যবহার করবেন না, তাঁদের ক্ষেত্রে আমাদের কঠোর হতে হবে। আমরা রাজ্য সরকারি অফিসে ৫০ শতাংশ হাজিরা রাখছি। শপিং মল, শপিং কমপ্লেক্স, সিনেমা, পানশালা, রেস্তোরাঁ, জিম, সিনেমা হল পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। তার কারণ আমরা চাই না এটা (সংক্রমণ) আরও ছড়াক।’
রাজ্যে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত রাজনৈতিক, সামাজিক জমায়েতও নিষিদ্ধ থাকবে বলে এদিন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ’৫০ জনের বেশি কোন জমায়েত করা যাবে না। তাও জমায়েতের জন্য আগাম অনুমতি নিতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে রবীন্দ্রজয়ন্তী অনুষ্ঠান ভার্চুয়াল করা হবে।’ বাজারের সময়সীমা কিছুটা বদল হচ্ছে জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এখন থেকে সকাল সাতটা থেকে দশটা ও বিকেল পাঁচটা থেকে সাতটা পর্যন্ত বাজার-হাট খোলা থাকবে।’ আজ বৃহস্পতিবার থেকে লোকাল ট্রেন পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ থাকছে জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘লোকাল ট্রেন বন্ধ থাকার পাশাপাশি মেট্রো ও সরকারি পরিবহণও অর্ধেক চলবে। তাছাড়া কলকাতা, বাগডোগরা ও অন্ডাল বিমানবন্দরে যে সব বিমানযাত্রী নামবেন তাঁদের করোনা নেগেটিভ থাকা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আরটি-পিসিআর রিপোর্ট ছাড়া কাউকে রাজ্যে পা রাখতে দেওয়া হবে না। কেউ-কেউ ভুয়ো করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট নিয়ে আসছেন। এখন থেকে বাইরে থেকে আসা বিমান যাত্রীদের করোনা শংসাপত্রের উপরে কড়া নজর রাখা হবে। কেউ যদি জরুরি প্রয়োজনে রাজ্যে আসেন, সেক্ষেত্রে তাঁকে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন বা নিভৃতবাসে থাকতে হবে।’
তবে বড়বাজারে সোনার গয়নার দোকান খোলার সময়সীমায় কিছুটা বদল ঘটানো হচ্ছে জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘ওরা একটা অনুরোধ জানিয়েছিলেন, সেই অনুরোধ রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে প্রতিদিন দুপুর বারোটা থেকে বিকেল তিনটে পর্যন্ত গয়নার দোকান খোলা রাখা যাবে।’ ব্যাঙ্ক অফিসার ও কর্মচারি সংগঠনের পক্ষ থেকে ব্যাঙ্কিং পরিষেবার সময় কমানোর জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আর্জি জানানো হয়েছিল। সেই আর্জিতে সাড়া দিয়ে এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ‘সকাল দশটা থেকে দুপুর দুটো পর্যন্ত ব্যাঙ্ক খোলা থাকবে।’
তবে রাজ্যে এই মুহুর্তে পূর্ণাঙ্গ লকডাউন জারি হচ্ছে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘আমাদেরর লক্ষ্য ভিড় এড়ানো ও অযথা জমায়েত রোখা। এখনই সম্পূর্ণ লকডাউন না করে আমরা সেই সব জায়গা বেছে নিয়েছি, যেখান থেকে সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হল, গরিবদের যাতে কোনও অসুবিধা না হয় এবং অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্থ না হয়। কিছুদিনের জন্য এমন কড়া পদক্ষেপ করতে হচ্ছে।’
একনজরে দেখে নেওয়া যাক রাজ্য সরকারের জারি করা নয়া নিদেশিকায় কী-কী রয়েছে—
১) বৃহস্পতিবার থেকে সমস্ত লোকাল ট্রেন বন্ধ। মেট্রো ও সরকারি বাসে ৫০ শতাংশ যাত্রী।
২) সরকারি ও বেসরকারি অফিসে ৫০ শতাংশ কর্মীর হাজিরা
৩) সকাল ৭টা থেকে ১০টা ও বিকাল ৫টা থেকে সন্ধে ৭টা পর্যন্ত বাজার খোলা থাকবে
৪) ব্যাঙ্ক খোলা থাকবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত
৫) বড়বাজারে সোনার গয়নার দোকান খোলা থাকবে বেলা বারোটা থেকে তিনটে পর্যন্ত
৬) রাজনৈতিক ও সামাজিক সমাবেশ নিষিদ্ধ
৭) বিনোদন কিংবা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ৫০ জনের বেশি জমায়েত নয়। তাও আগাম অনুমতি নিতে হবে।



