খবর লাইভ : আশঙ্কাই সত্যি হল। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটের লক্ষ্যে এবার বীরভূম জেলা তৃণমূলের সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল ওরফে কেষ্টকে নজরবন্দি করল নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার বিকেল থেকে নজরবন্দি করা হয়েছে বীরভূমের দাপুটে নেতাকে। আগামী ৩০ এপ্রিল সকাল ৭টা পর্যন্ত নজরবন্দি থাকবেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, একজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা বীরভূম জেলা তৃণমূলের সভাপতিকে নজরবন্দি করবেন। ভিডিয়োগ্রাফির মাধ্যমে নজর রাখা হবে অনুব্রতকে।
যদিও কমিশনের নির্দেশের পরেও স্বকীয় মেজাজেই রয়েছেন বীরভূমের জেলা তৃণমূল সভাপতি। বরং সংবাদমাধ্যমকে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে কটাক্ষের সুরে বলেন, ‘নজরবন্দি মানে কী? আমি যেখানেই যাব সেখানেই এক জন ম্যাজিস্ট্রেট থাকবে। আর কয়েক জন সিআরপিএফ থাকবে। এই তো নজরবন্দি। আমাকে তো গৃহবন্দি করেনি! প্রত্যেক বার করে, এ বারও করেছে। আমি যখন বাড়ি থেকে বেরোব, পার্টি অফিসে যাব, আমার সঙ্গে সঙ্গে আসবে ক্ষতি কী আছে? খেলা কি বন্ধ হয় ? ঘরের ভিতরে চার জনে মিলে খেলা হয় না? খেলব মনে করলেই খেলা হবে।’ কমিশনের সিদ্ধান্তকে অবশ্য স্বাগত জানিয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।
বীরভূমে দলের অন্যতম সেনাপতির উপরে যে কমিশনের শাস্তির খাঁড়া নেমে আসতে চলেছে কয়েকদিন আগেই সেই আশঙ্কা করেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে তিনি অনুব্রতকে পরামর্শও দিয়েছিলেন, কমিশন নজরবন্দি করলে তার বিরুদ্ধে যেন তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। যদিও এদিন কমিশনের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার বিষয়ে কিছু জানাননি বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি।
তবে এবারেই প্রথম নয়, ২০১৬ সালের বিধানসভা ও ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের আগেও অনুব্রতকে নজরবন্দি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নির্বাচন কমিশন।
কমিশনের পক্ষ থেকে এদিন বীরভূম জেলা তৃণমূলের সভাপতিকে নজরবন্দি করার জন্য যে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে, ‘অবাধ ভোটের’ স্বার্থেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।



