খবর লাইভ : বেলাগাম করোনা পরিস্থিতির কারণে শেষ মুহুর্তে বঙ্গে আসতে না পারলেও ভার্চুয়াল সভা থেকে প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরে বেকার যুবকদের চাকরি থেকে শুরু করে মহিলাদের সুরক্ষা, পিএম কিষান নিধির বকেয়া টাকা থেকে পাকা বাড়ি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ২ মে রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠিত হওয়ার পরে বাংলার মাটিকে প্রণাম করতে আসবেন। পঞ্চম দফার ভোটের দিন আসানসোলে ভোটপ্রচারে এসে মোদি দাবি করেছিলেন, ‘প্রথম চার দফাতেই তৃণমূল সরকারের বিদায় ঘণ্টা বেজে গিয়েছে। কিন্তু এদিন আর তেমন কোনও দাবির পথে হাঁটেননি।
শুক্রবার বিধানসভা ভোটের প্রচারের জন্য রাজ্যে আসার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রীর। মালদা, বহরমপুর, সিউড়ির পাশাপাশি কলকাতার শহিদ মিনার ময়দানে জনসভা করার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু করোনার কারণে সেই সফর বাতিল করেছেন তিনি। দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর মতো দিল্লি থেকে ভার্চুয়াল ভাষণ দিয়েছেন। আর সেই ভাষণের শুরুতে বাংলাতে সভা করতে না আসতে পারার জন্য ক্ষমা চেয়ে নিয়ে বলেছেন, ‘করোনার কারণে আপনাদের সামনে উপস্থিত হতে পারিনি। তার জন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।’
তার পরেই বাংলায় পরিবর্তনের ডাক দিয়ে মোদি বলেন, ‘বাংলার প্রতিটি কোনায়-কোনায় গিয়ে বুঝেছি, মানুষ পরিবর্তনের জন্য উদগ্রীব হয়ে রয়েছেন। সোনার বাংলা গড়ার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছেন। গত ৬ দফার ভোটে বিজেপিকে দু’হাত ভরে সমর্থন জানিয়েছেন তাঁরা। তার জন্য বাংলার মানুষকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’ রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে কী কী করবে, তার ফিরিস্তি দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিজেপি ক্ষমতায় এলে বেকার যুবকদের চাকরি দেব। মা-বোনেদের সুরক্ষা দেবে বিজেপি। অপরাধমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলা গড়ে তোলা হবে। গরিবরা মাথার উপরে পাকা ছাদ পাবেন। পরবর্তী প্রজন্ম যাতে রোগমুক্ত থাকে তার জন্য প্রতিটি বাড়িতে পাইপলাইনের সাহায্যে পরিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া হবে। বাংলায় ডেঙ্গু এক বড় সমস্যা। সেই সমস্যার সমাধান করা হবে। মৎস্যজীবীদের বিশেষ ভাতা দেওয়া হবে। থমকে যাওয়া মেট্রো প্রকল্পের কাজ গতি পাবে।’
এখানেই থামেননি প্রধানমন্ত্রী। বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যে বিনিয়োগের বন্যা বয়ে যাবে বলেও আশার কথা শুনিয়েছেন মোদি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কাটমানি, তোলাবাজি উন্নয়নের বড় শত্রু। ভারতে রেকর্ড পরিমাণ বিনিয়োগ হচ্ছে। বিশ্বের তাবড় সংস্থা বিনিয়োগের ঝুলি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ছে। বাংলাতেও যাতে বিনিয়োগ আসে তার জন্য সব রকমের চেষ্টা চালাবে বিজেপি সরকার।’
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতেই যে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার নয়া শিক্ষানীতি প্রণয়ন করেছে, তা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গরিব-দলিত থেকে শুরু করে সবার কাছে শিক্ষাকে পৌঁছে দেওয়ার জন্য নয়া শিক্ষানীতি চালু করা হয়েছে।’
৩৩ মিনিটের ভাষণের শেষের দিকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে চলার জন্যও পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘টিকা নেওয়ার পরেও মাস্ক পরতে হবে। পুরো মুখ ঢাকতে হবে। দাওয়াই ভি কড়াই ভি। এটাকে মন্ত্র বানাতে হবে। বাংলা জিতবে। বিজেপি জিতবে। একসঙ্গে এগোব আমরা।’
চলতি বিধানসভা ভোটে রাজ্যে এসে অধিকাংশ জনসভাতেই তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘দিদি, ও-দিদি, ‘আদরনীয় দিদি’ বলে টিপ্পনি ছুঁড়ে দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তবে এদিনের ভার্চুয়াল বক্তৃতায় একটি বারও সেই ডাক শোনা যায়নি। শুধু তাই নয়, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণও শানাননি মোদি।



