খবর লাইভ : করোনার ভয়াবহ চোখ রাঙানি আর উত্তেজনাকে সঙ্গী করেই কাল বৃহস্পতিবার বাংলায় ষষ্ঠ দফার ভোটের লাইনে দাঁড়াচ্ছেন ভোটাররা। সকাল ৭টা থেকে সন্ধে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। আজকের ভোটে ইভিএম বন্দি হচ্ছে ৩০৬ প্রার্থীর ভাগ্য। তার মধ্যে যেমন রয়েছেন রাজ্যের পাঁচ মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, উজ্জ্বল বিশ্বাস, স্বপন দেবনাথ ও গোলাম রব্বানি, তেমনই রয়েছেন বঙ্গ রাজনীতির পোড়খাওয়া দুই বিজেপি নেতা মুকুল রায় ও রাহুল সিনহা। ভোটযুদ্ধে নিজেদের ভাগ্য পরীক্ষায় নেমেছেন টলিউডের দুই পরিচিত মুখ পরিচালক রাজ চক্রবর্তী ও কৌশানী মুখোপাধ্যায়। লড়াইয়ের ময়দানে রয়েছেন ‘দলবদলু’ শীলভদ্র দত্ত, সুনীল সিং, শুভ্রাংশু রায়, বিশ্বজিৎ দাস, অরিন্দম ভট্টাচার্য, কাজী আবদুর রহিম (দিলু) ও রফিকুর রহমান।
প্রথম পাঁচ দফার ভোটের মতো ষষ্ঠ দফার ভোটেও কার্যত নিরাপত্তার বজ্র আঁটুনির ব্যবস্থা করেছে নির্বাচন কমিশন। অতীতের ভোট হিংসার কথা মাথায় রেখে বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে বিশেষ নজরদারি চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। দুই পুলিশ পর্যবেক্ষককে নিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৪৩ আসনের ১৪ হাজার ৪৮০ বুথ পাহারার জন্য ৭৭৯ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। আসানসোল-দুর্গাপুরে থাকছে ১৪ কোম্পানি, বনগাঁ ও বারাসত পুলিশ জেলায় মোতায়েন করা হবে ৬৯ ও ৫৯ কোম্পানি বাহিনী। বারাকপুর কমিশনারেট এলাকায় থাকছে ১০৭ কোম্পানি বাহিনী। বসিরহাটে থাকছে ৪০ কোম্পানি এবং বিধাননগরে থাকছে ৩ কোম্পানি আধা সেনা। উত্তর দিনাজপুরে ১৭৮ কোম্পানি, দক্ষিণ দিনাজপুরে ৩ কোম্পানি ও পূর্ব বর্ধমানে ১৪৩ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। নদিয়া জেলায় মোতায়েন করা হচ্ছে ১৬৩ কোম্পানি বাহিনী। ২৬ জন সাধারণ পর্যবেক্ষকের পাশাপাশি ১৪ জন পুলিশ পর্যবেক্ষককে নামানো হচ্ছে।
রাজ্যে ষষ্ঠ দফায় ৪৩ আসনে ভোটযুদ্ধের ময়দানে রয়েছেন ৩০৬ জন প্রার্থী। তাঁদের মধ্যে মহিলা প্রার্থীর সংখ্যা মাত্র ২৭ জন। অর্থাৎ ৯ শতাংশ। সেখানে কোটিপতি প্রার্থীর সংখ্যা ৬৬। শতাংশের হিসেবে ২২। সবচেয়ে ধনী প্রার্থী হলেন উত্তর দমদমের বিজেপির প্রতীকে লড়াইয়ে নামা অর্চনা মজুমদার। তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ ২৮ কোটি ৫৪ লক্ষ ৩২ হাজার ৮৯৫ টাকা। আর সবচেয়ে গরিব প্রার্থী পূর্ব বর্ধমানের গলসিতে বহুজন সমাজ পার্টির টিকিটে লড়াই করা সন্দীপ সরকার। মাত্র ১১০০ টাকার পুঁজি নিয়ে ভোটযুদ্ধে নেমেছেন তিনি।
বাকি পাঁচ দফার মতো ষষ্ঠ দফার ভোটেও দাগি প্রার্থীর ছড়াছড়ি। ৮৭ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চলছে। তার মধ্যে আবার ৭১ জনের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির গুরুতর ধারায় মামলা রয়েছে। ওই ৭১ জনের বিরুদ্ধে ৫ জন খুনের মামলায় অভিযুক্ত। ২২ জনের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার মামলা চলছে। আর ১৯ জন মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধ সংগঠিত করার মতো অপরাধে অভিযুক্ত। তাঁদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে আবার ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ রয়েছে। একই কেন্দ্রে তিন বা ততোধিক প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চলার কারণে ৪৩টি আসনের মধ্যে ১২টি কেন্দ্রকেই ‘লাল সতর্কতা’ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন। ওই ‘লাল সতর্কতা’ কেন্দ্র হল খড়দা, বারাকপুর, জগদ্দল, ভাটপাড়া, বীজপুর, আমডাঙা, অশোকনগর, তেহট্ট, কালীগঞ্জ, পূর্বস্থলী দক্ষিণ, রায়গঞ্জ ও চোপড়া।
পাঁচ বছর আগে বিধানসভা ভোটে ষষ্ঠ দফার ৪৩ আসনের মধ্যে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস জয়ী হয়েছিল ৩২টি আসনে। বাম জিতেছিল ৪টি আসনে এবং কংগ্রেস জিতেছিল ৭ আসনে। শূন্য হাতে ফিরতে হয়েছিল বিজেপিকে। পরে উপনির্বাচনে কংগ্রেসের হাত থেকে ইসলামপুর, কালিয়াগঞ্জ ও নোয়াপাড়া আসন ছিনিয়ে নিয়েছিল ঘাসফুল শিবির। আবার লোকসভা ভোটের পরে ভাটপাড়া আসনটি রাজ্যের শাসকদলের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিল বিজেপি।
দু’বছর আগে লোকসভা ভোটে অবশ্য চমকপ্রদ উত্থান ঘটেছিল পদ্মশিবিরের। শূন্য থেকে ১৯ আসনে এগিয়ে ছিলেন বিজেপির প্রার্থীরা। তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে ছিল ২৪ আসনে। আলাদা লড়তে গিয়ে খাতাই খুলতে পারেনি বাম-কংগ্রেস। বামের ভোট রাম শিবিরে বদল হওয়ার ফলেই এমন ঘটনা ঘটেছিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তবে এবারে কিছুটা চাপে থাকলেও বাকি প্রতিপক্ষদের চেয়ে এগিয়ে ঘাসফুল শিবির। নিজেদের গড় ধরে রাখা অবশ্য রাজ্যের শাসকদলের কাছে বড় চ্যালেঞ্জের। আবার অস্তিত্ব বাঁচাতে বাম-কংগ্রেসও মরিয়া হয়ে ঝাঁপাচ্ছে আজকের ভোটে। ফলে ভোট কাটাকাটি আর অদলবদলের খেলায় কাদের মুখে হাসি ফুটবে, তা জানতে ২ মে পর্যন্ত অপেক্ষা ছাড়া কোনও গতান্তর নেই।



