খবর লাইভ : রাজ্যে করোনাভাইরাসের বেলাগাম সংক্রমণের কারণে ফের রাজ্যের বকেয়া তিন দফার ভোট এক দফায় করার দাবি জানালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার মালদায় এক জরুরি সাংবাদিক সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনকে বকেয়া তিন দফার নির্বাচন নিয়ে পুনরায় চিন্তাভাবনা করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর মতো প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে রাজ্যবাসীর জীবন বাঁচাতে আপাতত নির্বাচন বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তিনি। তাঁর প্রস্তাব, আপাতত ভোট বন্ধ রেখে রমজানের ওরে ভোট করা হোক। যদিও বিজেপি নেতারা ভোট বন্ধ করার পক্ষপাতী নন। বরং ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’র কৌশল অবলম্বন করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের কাঁধেই ছেড়েছেন বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ।
রাজ্যে যেখানে করোনার সংক্রমণ ভয়াবহ হয়ে উঠছে, সেখানে একগুঁয়েমি দেখিয়ে আট দফার ভোট করানোর সিদ্ধান্তেই অটল রয়েছেন নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ আধিকারিকরা। বিশেষ করে বিজেপি ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আধিকারিকরা। আর কমিশনের সেই একগুঁয়েমি সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন রাজ্যের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ সহ চিকিৎসকরা। তাঁদের প্রশ্ন, ‘ভোট আগে নাকি মানুষের প্রাণ।’
রাজ্য জুড়ে করোনার সংক্রমণের থাবা থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে ইতিমধ্যেই শেষ তিন দফার ভোট এক দফায় করার দাবি জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই দাবি খারিজ হলেও এদিন ফের একবার একই অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। মালদায় জরুরি সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘রাজ্যে আর মাত্র তিন দফার ভোট বাকি রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কাছে হাত জোড় করে অনুরোধ জানাচ্ছি, একদিনে তিন দফার ভোট করুন। যদি তা না হয়, তাহলে দু’দিনে ভোট করুন। সাধারণ মানুষকে বাঁচান। বিজেপির কথা শুনে চলবেন না। মানুষের জীবন অনেক মূল্যবান। মানুষের স্বার্থেই ভোট নিয়ে একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।’
অন্যদিকে বকেয়া তিন দফার ভোট একসঙ্গে করার দাবি না জানিয়ে সরাসরি ভোট স্থগিত রাখারই দাবি জানিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুশীল চন্দ্রাকে দেওয়া চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘দেশজুড়েই করোনার সংক্রমণ ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। পশ্চিমবঙ্গও তার ব্যতিক্রম নয়। রাজ্যে ক্রমাগত মারণ ভাইরাস ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। করোনার টিকারও অপ্রতুলতা দেখা দিয়েছে। মুর্শিদাবাদ জেলায় ইতিমধ্যেই সংযুক্ত মোর্চার দুই প্রার্থী করোনায় মারা গিয়েছেন। এই পরিস্থিতির কথা বিবেচনা রেখে আপাতত ভোট স্থগিত রেখে রমজানের পরে বকেয়া তিন দফার ভোট করা হোক। কোনও দোদুল্যমানতায় না ভুগে এ বিষয়ে দৃঢ় পদক্ষেপ করতে হবে।’
উল্লেখ্য রাজ্যে করোনার বেলাগাম সংক্রমণের কথা মাথায় রেখে যাবতীয় নির্বাচনী সভা বাতিল করেছেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধি। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও কলকাতায় আর কোনও বড় সভা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এমনকী সভায় ভাষণও কাটছাঁট করেছেন। বামেদের পক্ষ থেকেও বড় সভা-সমাবেশ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একমাত্র ব্যতিক্রম বিজেপি। রাজ্যে করোনার চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে সভার পরে সভা করে চলেছেন অমিত শাহ-নরেন্দ্র মোদি-জে পি নাড্ডারা। দিনে তিন চারটি করে সভা করে চলেছেন তাঁরা।




