খবর লাইভ : একেই বলে একই যাত্রায় পৃথক ফল। সংখ্যালঘু ভোট চাওয়ার অপরাধে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রচারে ২৪ ঘন্টার জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও লাগাতার ধর্মের বিষ ঢেলে চলা সত্বেও শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সাহস দেখাতে পারল না নির্বাচন কমিশন। তাঁকে নামমাত্র সতর্ক করে ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে বাংলাজুড়ে আরও শীতলকুচি ঘটানোর হুমকি দেওয়ায় বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের জবাব তলব করা হয়েছে। আগামিকাল বুধবার সকাল দশটার মধ্যেই জবাব দিতে বলা হয়েছে তাঁকে। অথচ একই অপরাধে বঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহার প্রচারে ৪৮ ঘন্টা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে আগামী বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত তাঁর উপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় হাসি-মশকরা শুরু হয়েছে। অনেক নেটা-নাগরিককই কটাক্ষের সুরে বলেছেন, ‘কমিশনের আধিকারিক ও শীর্ষ কর্তাদের শিরদাঁড়া কতটা ভঙ্গুর, ফের একবার প্রমাণিত হল। শুভেন্দু অধিকারী যেহেতু কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের প্রিয়পাত্র, তাই তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে রাজনেতিক প্রভুর রোষানলে পড়তে চাননি নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ আধিকারিকরা।’ শুধু নেটা নাগরিকরাই নন, রাজনেতিক পর্যবেক্ষকরাও মনে করছেন, ‘রাহুল সিনহাকে শাস্তি দিয়ে আসলে রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে মুখরক্ষা করতে চেয়েছে কমিশন।’
শনিবার ভোট চতুর্থীর দিন কোচবিহারের শীতলকুচিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নির্বিচারে গুলিতে চার মুসলিম যুবকের মৃত্যুর পরেই উত্তাল হয়ে পড়ে রাজ্য-রাজনীতি। তৃণমূল-বিজেপি, দু’দলই একে অপরের কাঁধে দোষ চাপাচ্ছে। ওই মর্মান্তিক ঘটনার পরেই রবিবার হাবড়ার চোংদা মোড় থেকে বাণীপুর পর্যন্ত রোড শো শেষে শীতলকুচির ঘটনা নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করেন হাবড়ার বিজেপি প্রার্থী রাহুল সিনহা। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘শীতলকুচিতে ৪ জনের বদলে ৮ জনকে মারা উচিত ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর। কেন কেন্দ্রীয় বাহিনী ৪ জনকে মারল, তার জন্য বরং শো কজ করা উচিত তাদের।’ শুধু রাহুলই নন, রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসুও হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, ‘বেশি খেলতে যেও না। শীতলকুচির খেলা খেলে দেব।’
অথচ ওইদিন সকালেই বরানগরে দলীয় প্রার্থী পার্ণো মিত্রের প্রচারে গিয়ে বাংলা জুড়ে জায়গায়-জায়গায় শীতলকুচি ঘটানোর হুমকি দিয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তাঁর ওই বেলাগাম মন্তব্য নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হন তৃণমূল ও সংযুক্ত মোর্চার নেতারা। দিলীপের প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারির দাবি জানান তাঁরা। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে কমিশনের পক্ষ থেকে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রাহুল সিনহার প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। আর দিলীপের কাছে জবাব তলব করা হয়।




