কলকাতা, ১২ এপ্রিল: মমতার প্রচারে নিষেধাজ্ঞা কমিশনের। আজ রাত ৮টা থেকে কাল রাত ৮টা পর্যন্ত মমতার প্রচারে নিষেধাজ্ঞা কমিশনের। মমতার মন্তব্যে আইনশূঙ্খলার অবনতি হচ্ছে। এই কারণে ২৪ ঘণ্টা প্রচার করতে পারবেন না তৃণমূল সুপ্রিমো।কমিশনের সাফ মন্তব্য, মমতার মন্তব্য নির্বাচনী বিধিভঙ্গ। ভোটচলাকালীন এমন মন্তব্য করতে পারবেন না মমতা।স্বাভাবিকভাবেই কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। টুইটারে দলীয় মুখপাত্র ডেরেক ও’ব্রায়েন লেখেন, “১২ তারিখ গণতন্ত্রের কালো দিন।” কমিশনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আগামীকাল গান্ধি মূর্তির পাদদেশে ১২টায় ধরনায় বসবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
রাজ্যের ক্ষেত্রে রীতিমতো নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করল কমিশন।নিষেধাজ্ঞা জারির আগে ২ বার নোটিশ পাঠানো হয় তাঁকে। একটি নোটিশে তাঁর ”মুসলিম ভোট ভাগ হতে দেবেন না” মন্তব্যের কারণে জবাবদিহি করা হয়। দ্বিতীয় নোটিশে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে করা তাঁর ঘেরাও মন্তব্যের কারণে জবাব জানতে চাওয়া হয়েছিল। ৯ তারিখ কমিশনের শোকজের জবাব দেন মমতা। কমিশনের দাবি, দু’টি নোটিশের জবাবেই তিনি খুব বেছে বেছে জবাব দিয়েছেন। বড় যে অংশটা, তা নেত্রী এড়িয়ে গিয়েছেন বলে দাবি কমিশনের। যে কারণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী প্রচারে ব্যান করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হতে পারে বলে আশঙ্কার পাশাপাশি তাঁর বক্তব্য প্ররোচনামূলক বলেও জানিয়েছে কমিশন।
এর আগে অসমে হিমন্ত বিশ্বশর্মার প্রচারেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। নিষেধাজ্ঞা জারি হয় মায়াবতী, যোগী আদিত্যনাথের ক্ষেত্রেও। রাজ্যের ক্ষেত্রে এহেন সিদ্ধান্ত এই প্রথম। কমিশনের এই সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, এই সিদ্ধান্ত যদি শুধু মমতার ক্ষেত্রে হয়, তাহলে তা অবশ্যই রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত।রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিলীপ ঘোষ, সায়ন্তন বসু, রাহুল সিনহা এই ধরণের কুকথা বহু বলেছেন। তাহলে একই যাত্রায় ভিন্ন ফল কীভাবে হতে পারে?




