খবর লাইভ : দেশে দৈনিক সংক্রমণ দেড় লক্ষ ছাড়াল। রাজ্যেও করোনা সংক্রমণ প্রায় সাড়ে চার হাজার ছুঁইছুঁই। শুধু কলকাতাতেই আক্রান্ত ১১০৯জন। এই অবস্থায় আজ থেকে শুরু হয়েছে ‘টিকা উৎসব’। এ বার করোনার বাড়তি সংক্রমণের পরিস্থিত মাথায় রেখে অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধ রেমডেসেভির রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করল কেন্দ্রীয় সরকার।
আমেরিকার জিলিড সায়েন্সের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ৭টি ভারতীয় কোম্পানি রেমডেসেভির তৈরি করে। কিন্তু যে ভাবে দেশে করোনা সংক্রমণের গতি বাড়ছে তাতে উদ্বিগ্ন কেন্দ্র। অতি সম্প্রতি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল বৈঠকের পর এবার ফের বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল সরকার। রফতানি রুখতে বিবৃতি দিল কেন্দ্র। সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যতদিন পর্যন্ত না করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে, ততদিন রেমডেসেভির রফতানি করবে না ভারত। দেশে যে ভাবে হু হু বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা, তাতে করোনা চিকিৎসায় রেমডেসেভিরের চাহিদা বেড়েছে। তাই চাহিদার কথা মাথায় রেখে রেমডেসেভির এখন রফতানি করবে না ভারত। শুধু তাই নয়, যতদিন না দেশে করোনা পরিস্থিতি ঠিক হচ্ছে, ততদিন জারি থাকবে এই নিষেধাজ্ঞা। এমনই জানিয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রক।
রেমডেসেভির ইনজেকশন তৈরি করে যে ৭টি কোম্পানি, তাদের কাছে কত স্টক আছে, তা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে এর স্টক বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে।
খারাপ হাল বাংলারও। যে ভাবে প্রতিদিন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, তাতে কয়েকদিনের মধ্যেই হাসপাতালে করোনা বেডের আকাল দেখা দেবে বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা। এম আর বাঙুর হাসপাতালে বেডের সংখ্যা ৪৪১। ফাঁকা নেই একটিও। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের বেড সংখ্যা ৩০০টি। খালি রয়েছে ৮০টি। চিত্তরঞ্জন ক্যান্সার হাসপাতালে ১৫০টি বেডের মধ্যে ১৩টি জায়গা রয়েছে। আর বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে ১৬৫টি বেডের মধ্যে ৩৫টি ফাঁকা রয়েছে। স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য বলছে, রাজ্যে অ্যাকটিভ করোনা রোগী অনেকটাই বেড়েছে। সুস্থতার হার কমছে। করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বিধানসভার বিদায়ী স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। পুরসভার ওয়ার্ডে যে পরীক্ষা চলছে, তার ফলাফলও বেশ উদ্বেগজনক। এতো কিছুর পরও অভাব সচেতনতার। সব মিলিয়ে করোনার চোখ রাঙানিতে আম আদমি ভয়ে সিঁটিয়ে থাকলেও, সচেতনতা উধাও।




