খবর লাইভ : দলের শক্ত ঘাঁটি বেহালাতে দাঁড়িয়ে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি নিয়ে ফের কেন্দ্রের মোদি সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হুঙ্কার ছুঁড়ে বললেন, ‘বাংলা যেমন ভাগ করতে দেব না, তেমনই এনআরসি ও এনপিআর করতেও দেব না।’ পাশাপাশি এবার ক্ষমতায় ফিরলে ফের জোকা থেকে ডায়মন্ডহারবার পর্যন্ত মেট্রো চালু করবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
আগামী শনিবার চতুর্থ দফায় বেহালা পূর্ব আর বেহালা পশ্চিমে ভোট হবে। দুই কেন্দ্রে তৃণমূলের হয়ে প্রার্থী হয়েছেন বিদায়ী শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও কলকাতার প্রাক্তন মহানাগরিক শোভন চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার দুই দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে বেহালায় প্রচার চালান তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকে একদা বামপন্থীদের শক্ত ঘাঁটি বেহালার সাধারণ মানুষ যেভাবে তাঁকে সমর্থন জানিয়েছে তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘আমি যাদবপুর লোকসভা থেকে যখন দাঁড়িয়েছিলাম, সেইসময়ে বেহালা পূর্ব ও পশ্চিমের মানুষ আমার পাশে ছিল। আপনাদের ভালবাসায় আমি আপ্লুত।’
গত ১০ বছর রাজ্য সরকার বেহালার উন্নয়নে কী-কী করেছে সেই ফিরিস্তিও তুলে ধরেন তিনি। এ প্রসঙ্গে মমতা বলেন, ‘বাম জমানায় বেহালার অবস্থা খুব খারাপ ছিল। যোগাযোগ ব্যবস্থা, রাস্তাঘাট, নিকাশি বলে কিছু ছিল না। একটু হলেই জল জমত। গত ১০ বছরে আমরা অনেকটাই বদলে দিয়েছি বেহালাকে। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক থেকে সাড়া চার হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছি। আগামী দিনে এখানে জল জমার সমস্যাও থাকবে না। নিকাশী ব্যবস্থা নিয়ে আর কোনও অভিযোগ থাকবে না।’
বেহালার মানুষের কাছে তিনিই যে মেট্রো রেলকে পৌঁছে দিয়েছেন সেই প্রসঙ্গ উত্থাপন করে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, ‘রেলমন্ত্রী থাকাকালীন আমিই এখানে মেট্রো রেলের প্রকল্প নিয়ে এসেছিলাম। আমি ভবিষ্যৎটা জানতাম। এবার জোকা থেকে ডায়মন্ড হারবার পর্যন্ত মেট্রো করে দেব। কেননা আমি জানি, কীভাবে কাজ করতে হয়।’
স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমায় এদিনের সভা থেকে বিজেপিকেও একহাত নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চ্যালেঞ্জের ভঙ্গিতে বলেন, ‘মা-মাটি-মানুষের সমর্থন পাই, তাহলে বিজেপিকে দুই তৃতীয়াংশ ভোটে হারাবই। যদি গণ আদালতে রায় নেওয়া হয়, তাহলে তৃণমূল কংগ্রেসকে কেউ আটকাতে পারবে না। হুমকি দিয়ে ভোট করাচ্ছে। কিছু মীরজাফর-গদ্দারকে কিনে নিয়েছে। কিন্তু তাতে কোনও লাভ নেই। আমার অমন দরকার নেই। আমি ছেলেমেয়েদের তৈরি করে নেব।’
নির্বাচন কমিশনকেও এদিন রেয়াত করেননি তৃণমূল সুপ্রিমো। বরং সুর চড়িয়ে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে সব কেন্দ্রীয় এজেন্সি এরা টাকা দিয়ে কিনে রেখেছে। নির্বাচন কমিশন আমাদের সঙ্গে সুবিচার করছে না। আমরা কপোনই অভিযোগ জানালে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বিজেপির কথা শুনে একাধিক আধিকারিককে বদলি করে দিচ্ছে। এক একটা জেলাকে একাধিক ভাগ করেছে। এমনভাবে চালাকি করে ভাগ করেছে যে কিছু বলার নেই! এমন কাণ্ড করেছে ভেবেছে যে মমতার রফা দফা করবে এত গুলো দফা বানিয়েছে। জানেনা, যে এতে কোনও রফা হওয়ার কিছু নেই। মমতাকে হারাতে পারবে না। তামিলনাড়ুতে ২৪০ টা আসনে এক দফায় ভোট হল, আর এখানে আট দফা!’




