খবর লাইভ : দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের দিন নন্দীগ্রামের বয়াল ৭ নম্বর বুথের ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীর যাবতীয় অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। শুধু তাই নয়, এ দিন কমিশনের তরফে এক চিঠি লিখে ওইদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা মুখ্যমন্ত্রী যে চিঠি লিখেছিলেন তাতে বানান ভুলের উল্লেখ করা হয়েছে এই চিঠিতে।
উল্লেখ্য ১ এপ্রিল নন্দীগ্রামে ভোটের দিন সকাল থেকেই বয়াল ৭ নম্বর বুথ দখলের অভিযোগ উঠেছিল বিজেপির বিরুদ্ধে। স্থানীয় তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা দফায় দফায় সংবাদমাধ্যমের কাছে এই অভিযোগ করেছে। এমনকি তৃণমূল এজেন্টের মাকে এও বলতে শোনা গিয়েছে, তিনি তাঁর ছেলেকে বুথে পাঠাতে চান না। কারণ তাকে পাঠানো হলে ফল ভুগতে হবে পরিবারকে। আক্রমণের শিকার হতে পারেন তাঁরা।
এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই ময়দানে নামেন মুখ্যমন্ত্রী তথা নন্দীগ্রামের প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেদিন বয়ালের ওই বুথে গিয়ে সাধারণ মানুষের সাহস বাড়ানোর চেষ্টা করেন তিনি। অভিযোগ করেন রাজ্যপাল ও নির্বাচন কমিশনকে।এদিন তারই জবাব দিল।
নির্বাচনের দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা চিঠির জবাব দিতে গিয়ে পাল্টা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরই সমালোচনা করল কমিশন। এই চিঠিতে ওই বুথে অর্থাৎ বয়াল ৭ নম্বর বুথে কোনও নিয়মবহির্ভূত ঘটনা ঘটেছে বলে অস্বীকার করেছে কমিশন।
কমিশন তার চিঠিতে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, ওই বুথে কোনও সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটেনি। বা বুথ ক্যাপচারের ঘটনাও ঘটেনি। বরং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে ভোট চলাকালীন বুথের মধ্যে দু’ঘণ্টা বসে থেকে বাধা সৃষ্টি করেছেন তার নিন্দা করেছে কমিশন। এখানে স্পষ্ট ভাষায় এও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোনও নাগরিক যদি স্বইচ্ছায় ভোট দিতে না যান বা নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবে বসতে না চান তাঁকে নির্বাচনী এজেন্ট হিসাবে বসানো কমিশনের দায়িত্ব হতে পারে না।
এদিকে এই নিয়ে এদিন তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক সম্মেলনে প্রশ্ন করা হলে তৃণমূলনেত্রী শশী পাঁজা বলেছেন, নাগরিকের ভোটদানের অধিকার নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশনের কর্তব্য। ওই দিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই কাজই করার চেষ্টা করেছিলেন। যে মানুষগুলো প্রকাশ্যে বলছেন ভোট দিতে পারছেন না তাঁদের এই দাবিকে উপেক্ষা করে কমিশনের এই বক্তব্য দুঃখজনক। গণতন্ত্রের পক্ষে এটা শুভ লক্ষণ নয়।




