খবর লাইভ: শহরবাসীর মনে এখনও জ্বলজ্বল করছে বাগবাজারের বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। ফের সেই স্মৃতিকে উস্কে দিল স্ট্র্যান্ড রোডের নিউ কয়লাঘাটায় পূর্ব রেলের বিল্ডিংয়ের অগ্নিকাণ্ড। সোমবার সন্ধ্যায় ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ছয় দমকল কর্মী, এক পুলিশ আধিকারিক ও দুই আরপিএফ জওয়ানের। ঘটনায় বিহ্বল মুখ্যমন্ত্রী রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে শোকপ্রকাশ করেন এবং মৃতদের পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকার আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দও এই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করে ট্যুইট করেন। প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে মৃতদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা ও আহতের ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথাও প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে
ঘোষণাও করা হয়েছে। অন্যদিকে, ঘটনার পর ১২ ঘণ্টা কেটে গেলেও এখনও আগুন সম্পূর্ণ নেভেনি। যার ফলে গোটা দেশের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে কলকাতা-সহ উত্তর-পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ অংশের অনলাইন টিকিট কাটার ব্যবস্থা।
জানা গিয়েছে, সোমবার সন্ধে ৬.১০ মিনিটে আগুন লাগে স্ট্র্যান্ড রোডে পূর্ব রেলের দফতরে। ১৩ তলায় আগুন লাগায় ল্যাডার আনতে হয় দমকলকে। এরপর যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে শুরু হয় আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ। সূত্রের খবর, দমকল কর্মীরা লিফটে করে ওপরে উঠছিলেন। যে মুহূর্তে লিফট খোলেন, আগুনের লেলিহান শিখায় ঝলসে যান তাঁরা। যার পরিণতি মৃত্যু। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ৪ দমকল কর্মী, একজন পুলিশ আধিকারিক ও দুই আরপিএফ জওয়ানের। পরে আরও দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। ইতিমধ্যেই মৃত ৯টি দেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। তার মধ্যে ৬টি দেহ ময়নাতদন্ত করার পর তাঁদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। বাকি ৩টি দেহ এখনও পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। তার মধ্যে আছে আরপিএফ-এর কনস্টেবল সঞ্জয় সাহানি, হেয়ার স্ট্রিট থানার এএসআই অমিত ভাওয়ালের দেহ। তবে মৃত ৯জনের মধ্যে একজনের পরিচয় এখনও মেলেনি। ওই দেহটি পুরোপুরি ঝলসে দলা পাকিয়ে গিয়েছে। শুধু পায়ের কিছু অংশ ছাড়া বাকি দেহটি এতটাই বিকৃত যে শনাক্তকরণ প্রায় অসম্ভব। ফলে ওই দেহটির ডিএনএ টেস্ট ছাড়া পরিচয় জানা যাবে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, যে বিল্ডিংয়ে আগুন লাগে, সেই বিল্ডিংয়ে আগুন লাগার পরেও কীভাবে লিফট চালু থাকে? পাশাপাশি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়েও কোন সিদ্ধান্তে বৈদ্যুতিক সংযোগের লিফট ব্যবহার করলেন দমকলকর্মীরা? এব্যাপারে, দমকলের সাফাই, তাদের কাছে আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত সংখ্যক প্রশিক্ষিত কর্মীর অভাব রয়েছে। সেকারণেই এই দুর্ঘটনা। তবে গোটা ঘটনায় বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে দমকল। অন্যদিকে, পুলিশকর্মীর মৃত্যুতে রেলের বিরুদ্ধে সুয়োমুটো মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
এদিকে, এই অগ্নিকাণ্ডের জেরে পূর্ব রেল-সহ দেশের বাকি পাঁচটি রেলওয়ে জোনের অনলাইন টিকিট কাটার ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। কখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে তার কোনও সদুত্তর দিতে পারছেন না কেউই। পূ্র্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিকের আশ্বাস, ‘সার্ভার রুমের বিদ্যুৎ সংযোগ পুনর্বহাল করা হলেই ফের অনলাইন টিকিট কাটার ব্যবস্থা চালু হবে। আগুন পুরোপুরি নিভে গেলে দমকল বিভাগের সঙ্গে কথা বলে সেটা ঠিক করা হবে।’



